মামলার প্রতিটি নথির পেছনে লুকিয়ে থাকে কোনো না কোনো মানুষ, একটি পরিবার কিংবা সমাজের ভাগ্য। এই বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, আইন পেশায় দায়িত্ব পালনের সময় প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিকতা এবং আইনি সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য পরিণতি অনুধাবন করা অত্যন্ত জরুরি।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘এজিও–ইউএনডিপি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম’-এর দ্বিতীয় ব্যাচের সমাপনী ও তৃতীয় ব্যাচের ইন্টার্নদের বরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আইন পেশাকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইন কেবল কিছু ধারা বা নজিরের সমষ্টি নয়। এটি মানুষের অধিকার রক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি, ক্ষমতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা সহকারে সুবিচার পাওয়ার একটি মাধ্যম। ভবিষ্যৎ আইনজীবী, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের পেশাগত সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর অগ্রগতির বিষয়েও সতর্ক ও সচেতন থাকার পরামর্শ দেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে এই কার্যালয়ের কাজ কেবল আদালতে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করা নয়, বরং সাংবিধানিক শাসন সমুন্নত রাখা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জনস্বার্থ রক্ষা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে তিনি ইউএনডিপি বাংলাদেশের ধারাবাহিক সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ইন্টার্নদের অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ইন্টার্নশিপ তরুণদের পেশাগত জীবনে আরও দক্ষ করে তুলবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাদের একনিষ্ঠ হতে সহায়তা করবে।





