নিরাপত্তা ঝুঁকিতে সৌদি যুবরাজ, স্থানান্তর করা হচ্ছে সুরক্ষিত প্রাসাদে

Published: October 13, 2026, 4:22 am

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে ক্রমাগত আক্রমণের মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে সুরক্ষিত এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৪১ বছর বয়সী যুবরাজকে সর্বশেষ গত মঙ্গলবার জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল, যখন তিনি একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। এরপর থেকেই হুতিদের হামলা জোরদার হওয়ায় তাকে জনসাধারণের চোখের আড়ালে রাখা হচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুবরাজের নিরাপত্তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং তাকে এমন সব প্রাসাদে রাখা হচ্ছে যেগুলোতে বাংকার সুবিধাসহ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিদ্যমান। তার সুরক্ষার জন্য একটি বাছাই করা বিশেষ নিরাপত্তা দলকেও দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

গত শনিবার সৌদি আরবে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে কমপক্ষে ১৩ জন নিহত এবং অন্তত ৩০০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। হামলায় ২৮ বছর বয়সী একজন মিসরীয় নারী ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেছেন, যার একটি হাত হামলার সময় উড়ে গিয়েছিল। এই হামলার পর থেকে কিং খালিদ বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে এবং গত পাঁচ দিনে সেখানে চারবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান এই হামলার কঠোর জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুতিদের ওপর সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। মক্কা চুক্তির আওতায় থাকা মিত্র দেশগুলোও রিয়াদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে কিছুটা স্থিমিত হলেও, চলতি বছরের জুলাই মাসে ইরান ও ইসরাইলকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে সেই চুক্তি ভেঙে পড়ে। হুতিদের অভিযোগ, ইরান থেকে আসা একটি বিমান সানা বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টাকালে সৌদি বাহিনী গুলি চালায়, যার প্রতিক্রিয়ায় তারা নতুন করে আক্রমণ শুরু করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই পরিস্থিতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, এই সংঘাত কেবল ইসরাইলিদেরই লাভবান করবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি ও হুতিদের মধ্যে সংলাপের জন্য তেহরানের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং সামরিক পন্থার পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধানের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব সামরিক হস্তক্ষেপের পর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত বর্তমানে নতুন করে তীব্রতর হয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin