সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তেহরান থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যদি এই সংঘাত অব্যাহত থাকে তবে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর রবিবার সন্ধ্যায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেন। উভয় পক্ষ মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং সংঘাতের বিস্তার নিয়ে কথা বলেছেন। সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাও এই আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে মধ্যস্থতার বিষয়ে সৌদি আরবের অবস্থান বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আব্বাস আরাঘচি টেলিগ্রামের এক পোস্টে স্পষ্ট করেছেন যে, রাজনৈতিক সমাধান এড়িয়ে সামরিক পন্থায় জোর দিলে সংকট আরও ঘনীভূত হবে। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের কোনো সংকটই সামরিক উপায়ে সমাধানযোগ্য নয়। ইয়েমেনের সঙ্গে সংলাপ শুরু করতে এবং রাজনৈতিক সমাধানে সহায়তা করতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
সোমবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই পুনরায় আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ইরান চায় না দুটি মুসলিম দেশের মধ্যে শত্রুতা বজায় থাকুক, বিশেষ করে যখন পুরো অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাঘাই আরও যোগ করেন, ইয়েমেনের জনগণের মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে এবং তারা যেন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধমুক্ত থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের ঘটনার পর সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই ইরান তাদের মধ্যস্থতার প্রস্তাবটি সামনে নিয়ে এলো।





