যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত কুইন এলিজাবেথ দ্বিতীয় সেন্টারে অনুষ্ঠিত লন্ডন হালাল ফোরামের বার্ষিক অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয় ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যের এক বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে। অংশগ্রহণকারীদের সামনে হুমুস, জা’তার, লাবনেহ ও ফালাফেলের মতো ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করে ফিলিস্তিনের খাদ্যসংস্কৃতি তুলে ধরা হয়। ‘মানবতার জন্য হালাল ও পবিত্র’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই ফোরামে হালাল অর্থনীতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
ফোরামে উপস্থিত উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও শিল্প খাতের নেতারা হালাল অর্থনীতিকে কেবল হালাল সনদ ও খাদ্যপণ্যের গণ্ডিতে আটকে না রেখে বিনিয়োগ, পর্যটন, প্রযুক্তি, সরবরাহব্যবস্থা, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান। সশরীর ও ভার্চ্যুয়াল মিলিয়ে দেড় হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী এই ফোরামে যুক্ত হয়েছিলেন। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতিতে লন্ডনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বও এই আয়োজনে উঠে আসে। হালাল৩৬০-এর আয়োজনে এই ফোরামটি ইসলামিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিসিডি) এবং হালাল প্রোডাক্টস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির (এইচপিডিসি) যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়, যেখানে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে আনাদোলু।
তুরস্কের ইবনে হালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের ডেপুটি চেয়ারম্যান বিলাল এরদোয়ান ফিলিস্তিনের সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, আগামী বছরের ১ অক্টোবরও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানাতে মানুষ রাস্তায় নামবে। তিনি ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যবাহী নাশতার এই আয়োজনকে স্টার্টআপ ও বিনিয়োগকারীদের শক্তিশালী করার একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। বিলাল এরদোয়ান জোর দিয়ে বলেন, খাদ্য খাতের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও চিকিৎসা ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ফিলিস্তিন ইস্যু দলীয় ও রাজনৈতিক সীমারেখার ঊর্ধ্বে। এছাড়া তিনি আল-আকসা মসজিদ পরিদর্শনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হুসাম জমলত গাজায় গণহত্যা, পশ্চিম তীরে জাতিগত নিধন এবং ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালিয়ে আসছে ইসরাইল। অনুষ্ঠানে সুলুহ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারপারসন নুরুল ইজ্জাহ আনোয়ার এবং আইসিসিডির মহাসচিব ইউসুফ খালাভি বক্তব্য দেন। এছাড়া লন্ডনে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ওসমান কোরাই এরতাস এতে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ফিলিস্তিনি জাদুঘরের ওপর একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। ফিলিস্তিনের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজের নানা দিক তুলে ধরা এবং সেগুলোর বর্ণনা সমৃদ্ধ করাই এই জাদুঘরের লক্ষ্য। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে লন্ডনের এক্সেল কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো লন্ডন হালাল ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়েছিল।





