বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের জনপ্রিয় প্রবীণ অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে ঢালিউডের চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অভিনেতা আনিসের উৎসাহে চলচ্চিত্রে আসা নাসিমা খান ঢাকার চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। ১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক হয়। ঢাকার দ্বিতীয় সবাক চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত এই সিনেমাটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পুরস্কারও অর্জন করেছিল। একই বছর বেবী ইসলাম পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘তানহা’য় অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি, যেখানে তার সহশিল্পী ছিলেন শবনম, সুমিতা দেবী ও লাহোরের অভিনেত্রী শামীম আরা।
১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমার মাধ্যমে নাসিমা খান নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন, যেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন আনিস। এরপর থেকে ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত তিনি সমান তালে বাংলা ও উর্দু ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অসংখ্য ব্যবসাসফল ও প্রশংসিত চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমার তালিকায় রয়েছে ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’।
দীর্ঘ সময় বড় পর্দা থেকে দূরে থাকার পর ২০১১ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ সিনেমায় তাকে শেষবারের মতো অভিনয় করতে দেখা যায়। নাসিমা খানের প্রয়াণে ঢালিউডের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটলো। সহশিল্পী ও ভক্ত-অনুরাগীরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন।





