সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত কুমিল্লার মাওলানা নাসরুল্লাহ

Published: October 11, 2026, 4:04 pm

পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার পথে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন মাওলানা নাসরুল্লাহ বদরপুরি (৩৫)। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের ওলামাবাড়ির বাসিন্দা ছিলেন। তিনি রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার সহকারী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালেদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-৩–এর ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ওই সময় সেখানে অপেক্ষমাণ থাকা দুই বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট ১২ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে অন্যজন বগুড়ার মো. শাহেদ আহম্মেদ। এ ঘটনায় আরও ৩০৯ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

পরিবারের তথ্যমতে, শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নাসরুল্লাহ সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন। তাঁর পরিকল্পনা ছিল রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় পৌঁছানো এবং সেখান থেকে পবিত্র মক্কায় ওমরাহ পালন করা। নাসরুল্লাহর ভগ্নিপতি মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন জানান, রিয়াদ বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টার ট্রানজিট শেষে জেদ্দাগামী ফ্লাইটে ওঠার প্রস্তুতিকালে তিনি হামলার শিকার হন। উড়োজাহাজে ওঠার সুযোগও পাননি তিনি।

মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ ও জাহানারা বেগমের চার ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে নাসরুল্লাহ ছিলেন তৃতীয়। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নাসরুল্লাহর বাবা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, 'আমার ছেলেটা আল্লাহর ঘরে গিয়েছিল। কিন্তু সে ওমরাহটা করতে পারেনি। তার এমন মৃত্যু আমরা কখনো কামনা করিনি।' তিনি আরও বলেন, 'কত নির্মমভাবে আমার ছেলেটা মারা গেছে, আল্লাহ ভালো জানেন। হয়তো আল্লাহপাক তাকে এভাবেই কবুল করেছেন।'

নাসরুল্লাহর স্ত্রী মাহবুব আক্তার এবং সাত বছর বয়সী ছেলে জামিল হাসান, পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে নাবিলা আক্তার ও দুই বছর বয়সী ছেলে মো. জাওয়াদ বর্তমানে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি সহায়তার আকুতি জানিয়েছেন তার বাবা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo