দিল্লিতে বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যাচ্ছেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published: October 11, 2026, 2:56 pm

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। আগামী মঙ্গলবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জোটটি প্রতিষ্ঠার প্রায় তিন দশক পর প্রথমবারের মতো এ ধরনের মন্ত্রী পর্যায়ের আয়োজন হতে যাচ্ছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্রমণি পান্ডে রোববার দিল্লি থেকে নিশ্চিত করেছেন যে, বাংলাদেশ ছাড়া অন্য ছয় সদস্যদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করছেন। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে যোগ দেবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চিঠির মাধ্যমে ৪ অক্টোবর বিমসটেক সচিবালয়কে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

সরকারের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর না যাওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দেননি। যদিও বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তবে বাংলাদেশ সরকারের ভাষ্য ছিল, আমন্ত্রণটি প্রধানমন্ত্রীর জন্য নয়, বরং বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে পাঠানো হয়েছিল।

বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে ১২ অক্টোবর সদস্যদেশগুলোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আলোচনায় বসবেন। বিমসটেকের সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক পরিচালনা করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। অন্যান্য দেশের মধ্যে ভুটানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুংতেন দর্জি, মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল কো কো ও, নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং, শ্রীলঙ্কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দনা আবেরত্নে এবং থাইল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংসাক থংস্রির অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

দিল্লির এই আলোচনায় এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ ও আন্তসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। এছাড়া মানব পাচার, মাদক ও অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং সদস্যদেশগুলোর নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিমসটেকের সন্ত্রাসবাদ দমন ও আন্তর্জাতিক অপরাধবিষয়ক যৌথ কার্যকরী দলের একাদশ বৈঠকের সুপারিশগুলোও এবারের আলোচনায় পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ৬ জুন ব্যাংকক ঘোষণার মাধ্যমে বিমসটেকের যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান নিয়ে গঠিত এই জোটের সচিবালয় ঢাকায় অবস্থিত। ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবে। কাঠমান্ডুতে ২০১৮ সালের ৩০ ও ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যার প্রায় দেড় বছর পর দিল্লিতে এই প্রথম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

৪ অক্টোবর বিমসটেক সচিবালয়ে পাঠানো ওই চিঠিতে ১২ ও ১৩ অক্টোবরের বৈঠকের জন্য চার সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নাম জানানো হয়।

তালিকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম নেই।বিমসটেক সচিবালয়ে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।এদিকে ৫ অক্টোবর সদস্যদেশগুলোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বিমসটেক সচিবালয়ের একটি জরুরি চিঠি থেকেও বৈঠকের প্রস্তুতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে।ওই চিঠিতে ব

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo