২৯ বছরেও কাঙ্ক্ষিত শিল্পায়নের মুখ দেখেনি লক্ষ্মীপুর বিসিক

Published: October 11, 2026, 4:09 am

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও বেকারত্ব নিরসনের স্বপ্ন নিয়ে ২৯ বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিল লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরী। ১৯৯৭ সালে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকায় ১৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই শিল্প এলাকাটি দীর্ঘ সময় পার করলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত শিল্পায়নের মুখ দেখতে পায়নি। নানা অব্যবস্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি উদ্যোক্তাদের উৎপাদনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০০০ সাল থেকে প্লট বরাদ্দ শুরু হওয়া এই শিল্পনগরীতে তিন দফায় ৫৪টি ইউনিটের জন্য ৯৯টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তবে বর্তমানে চালু রয়েছে মাত্র ৩০টির মতো ইউনিট।

শিল্পনগরীটির বর্তমান চিত্র অত্যন্ত নাজুক। লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হলেও এর কোনো প্রধান ফটক বা সীমানা প্রাচীর নেই। ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সড়কের বেহাল দশা। বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দে পানি জমে থাকায় ট্রাক ও পিকআপের মতো ভারী যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ড্রেনেজব্যবস্থা অকার্যকর হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, যা কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এছাড়া গ্যাস ও পানির তীব্র সংকট, নিয়মিত লোডশেডিং এবং পর্যাপ্ত সড়কবাতির অভাব শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে।

নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও উদ্যোক্তারা উদ্বিগ্ন। সীমানা প্রাচীর ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বাড়ছে, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে এখানে অয়েল মিল, বেকারি, চকলেট উৎপাদন, সয়াবিন প্রক্রিয়াকরণ, অটো রাইস মিল ও মবিল রিপ্যাকিংসহ বিভিন্ন ধরনের কারখানা থাকলেও অবকাঠামোর অভাবে তারা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।

কারখানার মালিক ও সংশ্লিষ্টরা এই অবস্থার জন্য অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন। কারখানা মালিক আব্দুর রহমান জানান, রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় মালামাল আনা-নেওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। মিতালি বেকারির কর্মচারী আবদুল কুদ্দুস অভিযোগ করেন, সড়ক সংস্কার করা হলেও তা টেকসই হয় না। ভাইয়া গ্রুপের অ্যাডমিন বেলাল হোসেন জানান, ড্রেনগুলোতে জমে থাকা পানি থেকে মশা ও জীবাণু ছড়াচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

শিল্পনগরীর সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা জুয়েল চৌধুরী। তিনি জানান, প্রধান গেট ও ডাম্পিং ইয়ার্ডের জন্য কাজ চলছে এবং পৌরসভার মাধ্যমে ড্রেন নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া সড়কবাতি স্থাপন ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আগামী দুই অর্থবছরের জন্য নেওয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা ও যারা এখনো উৎপাদন শুরু করেননি তাদের দ্রুত উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh