দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিধি বাড়াতে ওয়ালটনের ‘সোলার ইকো-সিস্টেম’ যাত্রা শুরু

Published: October 11, 2026, 3:33 am

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে ‘ওয়ালটন সোলার ইকো-সিস্টেম’ চালু করেছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণের পাশাপাশি গৃহস্থালি ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বৈচিত্র্যময় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সৌরশক্তির সাহায্যে পরিচালনার এক সমন্বিত প্রযুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। গত শনিবার রাজধানীর বসুন্ধরায় ওয়ালটনের করপোরেট কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই ইকো-সিস্টেমের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম, ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এস এম মাহবুবুল আলমসহ প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে আলোচকেরা মন্তব্য করেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ এক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বসতবাড়ি, বাণিজ্যিক ভবন, শিল্পকারখানা এবং বিভিন্ন স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে মোট চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মেটানো সম্ভব। কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির পেছনে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমানো এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো যাবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতে একটি গুণগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তেল ও গ্যাসের মতো প্রচলিত জ্বালানির ওপর আমদানিনির্ভরতার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়েছে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমানে আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী দামে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎই অন্যতম বিকল্প।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ওয়ালটনের এই সৌর উদ্যোগকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এটি মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সৌরবিদ্যুতের প্রসার ঘটলে চাহিদার একটি বড় অংশ মেটানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানিবাজারের ওপর নির্ভরশীলতা ধীরে ধীরে কমে আসবে। আধুনিক সৌরপ্রযুক্তির মাধ্যমে শুধু বাতি নয়—ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, কুকারসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি সহজেই চালানো সম্ভব।

সরকারের পক্ষ থেকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে বিভিন্ন প্রণোদনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, যাঁরা নিজেদের ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসাবেন, তাঁরা নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করার সুযোগ পাবেন। এ জন্য বিশেষ প্যাকেজ সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের মানুষ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে এগিয়ে এলে দ্রুত ব্যয় কমানো সম্ভব হবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অনুষ্ঠানে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম বলেন, দেশের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অন্যতম। শিল্পায়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদনমুখী উদ্যোগ তরান্বিত করতে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সক্ষমতা অত্যন্ত জরুরি। ওয়ালটন তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং যন্ত্রপাতি পরিচালনার সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। প্রতিষ্ঠানটি যেসব গৃহস্থালি পণ্য তৈরি করে, সেগুলোর প্রতিটিই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার উপযোগী করে তোলার সুযোগ রয়েছে।

দেশীয় উৎপাদন খাতের বিকাশে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা স্মরণ করে এস এম শামসুল আলম বলেন, শুরুতে যখন আমদানিনির্ভর ইলেকট্রনিকস বাজারে স্থানীয় পণ্যের মান নিয়ে অনেকের মনে সংশয় ছিল, তখন গণমাধ্যমকর্মীরা ইতিবাচক প্রচারণা চালিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করতে সাহায্য করেছেন। ফলে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের ওপর দেশবাসীর যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তা ওয়ালটনের অগ্রযাত্রাকে তরান্বিত করেছে।

ওয়ালটনের নিজস্ব কারখানার প্রতিটি ছাদে এবং কারখানার জলাশয়ে পরিচালিত মৎস্য খামারের ওপর সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদার একটি বড় অংশ নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা, সরকারি সহায়তা এবং বেসরকারি উদ্যোগে দেশে শিল্পায়নের উপযোগী পরিবেশ এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে বলে তিনি মত দেন।

ওয়ালটনের এই সমন্বিত ‘সোলার ইকো-সিস্টেমে’ বিদ্যুৎ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের জন্য সোলার প্যানেল, সোলার ইনভার্টার, স্টোরেজ ব্যাটারি এবং সোলার কেবল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে হাইব্রিড এসি, চার দরজার ইনভার্টার ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, বিএলডিসি সিলিং ফ্যান, স্ট্রিট লাইট, এলইডি বাল্ব ও ইলেকট্রিক স্টোভ। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণের জোর দাবির মুখে বাংলাদেশের মতো দেশে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, অবকাঠামো ও নীতিসহায়তা বজায় থাকলে এই সোলার ইকো-সিস্টেম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin