বেটিং তদন্তে ফোন জব্দ, আইসিসির দ্বারস্থ মোহাম্মদ রিজওয়ান

Published: September 18, 2026, 10:53 am

পাকিস্তানের উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের মুঠোফোন এখনো তাঁর কাছে নেই। ইংল্যান্ড সফরের সময় পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন (এনসিসিআইএ) এজেন্সি তাঁর ফোনটি জব্দ করেছিল। পরবর্তী সময়ে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ফোনটি পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। এই প্রক্রিয়া ও এনসিসিআইএর নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন রিজওয়ান, তবে গত বৃহস্পতিবার আদালত তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফরকে কেন্দ্র করে। টেস্ট সিরিজ চলার সময় ড্রেসিংরুমের কিছু তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে এনসিসিআইএ রিজওয়ান ও টেস্ট ওপেনার ইমাম-উল-হককে তলব করে। জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে লাহোরের কার্যালয়ে হাজির হওয়ার পর তাঁদের প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ইংল্যান্ডে অনুশীলনের সময় ও ম্যাচের দিনগুলোতে তাঁরা কার সঙ্গে দেখা করেছেন বা যোগাযোগ রেখেছেন, সেসব বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়া হয়।

তদন্তের পরিধি কেবল ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এনসিসিআইএ অনলাইন বেটিং ও জুয়াসংক্রান্ত বিষয় নিয়েও তদন্ত চালাচ্ছে। রিজওয়ান শুরু থেকেই এই তলব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর আইনজীবীর দাবি, নোটিশে জুয়া বা বেটিং সংক্রান্ত তদন্তের কথা বলা হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযোগের বিস্তারিত জানতে চাইলেও তাঁকে স্পষ্ট কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি বলে রিজওয়ানের অভিযোগ।

আদালতে শুনানির সময় রিজওয়ানের আইনজীবী অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তবে শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি আলিয়া নীলম আইনজীবীর ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং শেষ পর্যন্ত আবেদনটি খারিজ করে দেন।

আদালতে ব্যর্থ হওয়ার পর রিজওয়ান বিষয়টি নিয়ে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের কাছে গেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, তাঁর মুঠোফোন জব্দ করা এবং সেটি ইংল্যান্ড থেকে পাকিস্তানে নিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষা করার পুরো প্রক্রিয়াটি আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ধারা অনুযায়ী হয়েছে কি না। আইসিসি বা ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড এই প্রক্রিয়ায় জড়িত কি না বা তারা এ বিষয়ে অবগত ছিল কি না, সেটিও তিনি জানতে চেয়েছেন। জিও নিউজের তথ্যমতে, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নয়, বরং আইসিসির কাছ থেকে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা চাওয়া।

রিজওয়ানের ফোন জব্দের আগে সেটি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) হেফাজতে ছিল, পরে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চলমান তদন্তের বিষয়ে পিসিবি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, এই ঘটনাপ্রবাহের সময়েই পাকিস্তান টেস্ট দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে হারের পর রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হকসহ সাত ক্রিকেটারকে টেস্ট দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। একই সময়ে হেড কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo