সন্দেহের বশে কাউকে বাংলাদেশি চিহ্নিত করে তাড়ানো যাবে না: হাইকোর্ট

Published: October 9, 2026, 6:36 pm

কোনো ব্যক্তির জাতীয়তা নির্ধারণে কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই স্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এবং শুধু সন্দেহের বশে বা প্রতিবেশীদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে কাউকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো যাবে না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার এক ব্যক্তিকে আটকে রেখে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই মন্তব্য করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মুর্শিদাবাদের ওই আটক ব্যক্তির স্ত্রী ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) জারি করা আদেশ এবং তার স্বামীকে আটকে রাখার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন। আবেদনকারীর আইনজীবী রবিউল ইসলাম আদালতে জানান, কয়েকজন প্রতিবেশীর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া সন্দেহের জেরে গত ৮ আগস্ট থেকে ওই ব্যক্তিকে আটকে রাখা হয়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে তাকে আটকে রাখার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আদালত।

শুনানির সময় বিচারপতি ভট্টাচার্য প্রশ্ন করেন, "সত্তরের দশকে কত মানুষ সীমান্ত পেরিয়েছিলেন? তাদের সবাইকে কি ফেরত পাঠানো সম্ভব?" তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আটক ব্যক্তিকে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণের বা নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের কোনো সুযোগ দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। কয়েকজনের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে কীভাবে কারও জাতীয়তা চূড়ান্ত করা যায়, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। রাজ্য সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার দাবি করেন, আটক ব্যক্তি জাল নথির সাহায্যে ভোটার কার্ড, আধার ও প্যান কার্ড তৈরি করে থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ তিনি আদালতে দাখিল করতে পারেননি।

বিচারপতি ওই ব্যক্তির নির্বাসন আদেশ আপাতত স্থগিত করেছেন এবং মামলাটি উপযুক্ত একটি বেঞ্চে শুনানির জন্য হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ফেরত পাঠিয়েছেন। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কথিত অবৈধ বাংলাদেশি শনাক্তকরণ ও বহিষ্কার অভিযান এবং নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ সামনে এলো। ইতোমধ্যেই অনেককে বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করা হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে।

ভারতের বিভিন্ন বিজেপি-শাসিত রাজ্যে গত বছরের মাঝামাঝি থেকে বাংলাভাষী মুসলিম শ্রমিকদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন 'বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ' (মাসুম) এ বিষয়ে একাধিক অভিযোগ তুলেছে। মাসুমের সম্পাদক জানিয়েছেন, ভারতীয় নাগরিকদের কেবল সন্দেহের বশে আটকে রেখে বেআইনিভাবে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার কয়েক দিনের মধ্যে রাজ্য সরকার ‘আটক, বাদ, বহিষ্কার’ নীতি ঘোষণা করার কথা জানিয়েছে, যার আওতায় সন্দেহভাজনদের ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ রেখে দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, ইতোমধ্যেই কয়েক হাজার মানুষকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর আগে, বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো এক নারী ও দুই শিশুসহ চার ভারতীয় নাগরিক আদালতের নির্দেশে গত জুলাইয়ে মালদার মহদীপুর স্থলবন্দর দিয়ে নিজ দেশে ফিরে আসেন, যাদের প্রায় এক বছর বাংলাদেশে কাটাতে হয়েছিল।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin