এআই কন্টেন্ট শনাক্তে গুগলের নতুন টুল সিন্থআইডি ডিটেক্টর

Published: October 9, 2026, 9:44 am

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট শনাক্ত করার লক্ষ্যে গুগল নতুন একটি টুল উন্মুক্ত করেছে। 'সিন্থআইডি ডিটেক্টর' নামের এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো ছবি, ভিডিও, অডিও বা লেখা গুগলের এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হবে। টুলটি গুগলের এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিপমাইন্ডের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে।

বর্তমানে এই প্রযুক্তি গুগল ছাড়াও ওপেনএআই, এনভিডিয়া, কাকাও এবং অ্যাপলের এআই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তৈরি করা কনটেন্ট শনাক্ত করতে সক্ষম। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তিটি অদৃশ্য জলছাপ বা ওয়াটারমার্ক প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। ছবি, ভিডিও ও অডিওতে এমন কিছু সংকেত যুক্ত করা থাকে যা মানুষের চোখ বা কানে ধরা পড়ে না। সিন্থআইডি ডিটেক্টর এই সংকেতগুলো খুঁজে বের করে কনটেন্টের উৎস সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে।

গুগলের দেওয়া তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত প্রায় ১৮ হাজার কোটি ছবি ও ভিডিও এবং ২ লাখ ৪০ হাজার বছরের সমপরিমাণ অডিও কনটেন্টে সিন্থআইডির ওয়াটারমার্ক যুক্ত করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির একটি বিশেষ দিক হলো, ছবি কেটে ছোট করা বা ফিল্টারের মাধ্যমে সম্পাদনা করার পরেও ওয়াটারমার্কটি শনাক্ত করা যায়। এতে সাধারণ দর্শকদের জন্য কনটেন্টের গুণগত মানের কোনো পরিবর্তন হয় না।

এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও ও অডিওর বিস্তার দিন দিন বাড়ছে, যা ডিজিটাল কনটেন্টের নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভুয়া কনটেন্ট শনাক্ত করতে এই টুলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এআই আইনে জেনারেটিভ এআই কনটেন্ট শনাক্তের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গুগলের এই উদ্যোগকে সেই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে সিন্থআইডি ডিটেক্টর সব ধরনের এআই-নির্মিত কনটেন্ট শনাক্ত করতে পারবে এমন নিশ্চয়তা নেই। এটি মূলত সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে কনটেন্টে যুক্ত করা ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করে। ফলে ওয়াটারমার্কবিহীন কনটেন্টের ক্ষেত্রে এই টুলটির কার্যকারিতা সীমিত হতে পারে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy