নিউইয়র্কে গাড়িতে শিশুর সামনে ব্যক্তিকে আইসিই কর্মকর্তার গুলি, উত্তাল শহর

Published: October 9, 2026, 9:30 am

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি গাড়িতে পাঁচ বছরের এক শিশু থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছেন দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই) এক কর্মকর্তা। গত বৃহস্পতিবার ব্রঙ্কসের মার্বেল হিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিতে ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হলেও শিশুটি শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুরো নিউইয়র্ক জুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের কারণে এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কয়েক দফা ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

মেয়র মামদানি এই ঘটনাকে ‘অবিবেচনাপ্রসূত ও অত্যন্ত গুরুতর’ আখ্যা দিয়ে আইসিই বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আইসিই কর্মকর্তারা আমাদের জনগোষ্ঠীকে আতঙ্কিত করবেন, আর আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকব তা হতে পারে না।' তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে নিউইয়র্কে আইসিইর সব ধরনের অভিযান বন্ধের দাবি জানাবেন বলেও জানান। মামদানি আরও বলেন, আইসিই কোনো জবাবদিহি ছাড়াই কাজ করে এবং পুরো দেশে বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক ছড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ব্রঙ্কস এলাকায় একটি ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান’ চালানো হচ্ছিল। তাদের লক্ষ্য ছিলেন অপরাধে দণ্ডিত ২৮ বছর বয়সী ডোমিনিকান নাগরিক অস্কার বেলগাল। নিউইয়র্ক পুলিশের কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, বেলগাল যখন গাড়িটি পার্কিংয়ের জায়গায় ঢোকাচ্ছিলেন, তখন সাদাপোশাকে থাকা এক ফেডারেল কর্মকর্তা হাতে অস্ত্র নিয়ে তার কাছে যান। পরে একই পোশাকে আরেক কর্মকর্তা সেখানে আসেন। বেলগাল গাড়িটি সামনে এগিয়ে নিতে শুরু করলে অন্তত একজন কর্মকর্তা সাতটি গুলি ছোড়েন। এতে বেলগালের বাঁ কানের নিচে গুলি লাগে। আহত বেলগালকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং শিশুটিকে এক আত্মীয়ের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ট্রাম্প ও স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তামন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং নিউইয়র্কে আইসিইর অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য ঘটনার বডি ক্যামেরার ভিডিও জনসমক্ষে প্রকাশের অনুরোধ করেছেন তিনি। স্থানীয় নগর পরিষদের সদস্য কারমেন দে লা রোসাও এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর কর্মকাণ্ড নিয়ে আগে থেকেই সমালোচনা উঠছিল। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হন। ৭ জানুয়ারি রেনি নিকোল গুড নামের এক নারী এবং পরবর্তীতে নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের নার্স অ্যালেক্স প্রেটি সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হন। এসব ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তে বাধা দেওয়া এবং মিনেসোটায় অতিরিক্ত ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়, যা নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছিল।

বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে আইসিইর জনবল ও বাজেট ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটির কর্মকর্তার সংখ্যা ২২ হাজার ছাড়িয়েছে এবং চার বছরের জন্য প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে নিউইয়র্কের এই সর্বশেষ গুলির ঘটনা অভিবাসন অভিযান এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হন।৭ জানুয়ারি তিন সন্তানের মা ৩৭ বছর বয়সী রেনি নিকোল গুডকে আইসিইর এক কর্মকর্তা গুলি করে হত্যা করেন।

পরে ৩৭ বছর বয়সী নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের নার্স অ্যালেক্স প্রেটিও এক মার্কিন সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হন।গুডের মৃত্যুর পর ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাকে ‘অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যা দেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy