ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গা চুক্তি, অগ্রাধিকার ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফেরানো

Published: October 8, 2026, 6:23 pm

চলতি বছরের ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানান, নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনাকে মূল অগ্রাধিকার দেবে বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক ওই সেমিনারে অংশ নেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হবে। এছাড়া তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ করে আগামী বছরই সরকার মূল কাজ শুরু করতে চায়। এই দুটি প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রজেক্ট হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো বাংলাদেশের জন্য ‘মাস্টারমাইন্ড প্রজেক্ট’, যার সুফল ভোগ করবে দেশের মোট অঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ। ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান করার বিষয়টি একনেকে পাস হয়েছে এবং আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকের যেকোনো সময়ে কাজ দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রী বলেন, খুব দ্রুতই এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করতে হবে এবং এর ওপর ভিত্তি করেই মূল প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগলেও ২০২৭ সালের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করে ওই বছরই মূল কাজ শুরু করার দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার।

গঙ্গা চুক্তির ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় প্রথম পাঁচ বছরের জন্য যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ১৯৯৬ সালে সেই গ্যারান্টি ক্লজ বাদ রেখেই চুক্তিটি নবায়ন করা হয়। আগামী ১২ ডিসেম্বরের আগেই নতুন চুক্তি সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় পক্ষই যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জেআরসি-র বৈঠকের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই চুক্তিটি সম্পন্ন করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রকল্পে বাইরের কোনো দেশের চাপ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "পদ্মা ও তিস্তার পাড়ে যারা বাস করেন, তারা আমাদের দেশেরই মানুষ। আমার দেশের মানুষের স্বার্থ ও চাপই আমার কাছে সবচেয়ে বড় চাপ। সেই চাপকে ধারণ করে দেশের মানুষের কল্যাণ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।"

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে পদ্মা ব্যারাজের সমীক্ষা সম্পন্ন করতেই ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তা আর বাস্তবায়ন করা হয়নি। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তা চূড়ান্ত করে কাজ হাতে নিয়েছে। তিস্তার মতো বড় প্রকল্পের সমীক্ষা এক বা দুই মাসে করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা পর্যাপ্ত কারিগরি সহায়তা নিয়ে কাজ শেষ করেননি। তাই বর্তমান সরকার নিজস্ব উদ্যোগেই এই কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্পটিকে একটি দৃশ্যমান রূপ দেবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin