সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে কুয়েত, বাহরাইন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে এবং হুথি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সির তথ্যমতে, তাইফ গভর্নরেটে একটি হুথি ড্রোন ভূপাতিত করার পর তার ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক ইয়েমেনি বাসিন্দা নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন। চলতি মাসে হুথিদের হামলা বৃদ্ধির পর সৌদি আরবে এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। অন্যদিকে, ইয়েমেনের তায়েজ প্রদেশে সৌদি জোটের বিমান তিনটি যোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালিয়েছে বলে হুথিরা দাবি করেছে। হুথি নিয়ন্ত্রিত আল মাসিরা টিভির দাবি অনুযায়ী, আবস শহরে হামলায় একজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত ও একজন আহত হন। পরবর্তীতে হুথি সমর্থিত মাধ্যম জানায়, সৌদি সমর্থিত বাহিনীর হামলায় তিন শিশু নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
মক্কা লক্ষ্য করে ড্রোন ছোড়ার যে অভিযোগ সৌদি আরব করেছে, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন হুথি নেতা আবদেল-মালেক আল-হুথি। তিনি এক ভাষণে এই অভিযোগকে 'জঘন্য মিথ্যা' ও অপপ্রচার হিসেবে আখ্যায়িত করে দাবি করেন, মক্কার পবিত্রতা রক্ষা করা তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা কেবল আত্মরক্ষার্থেই এসব পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, যেকোনো পবিত্র স্থানে হামলা নিন্দনীয়। তবে তিনি কেবল ড্রোন ধ্বংসের দাবির ভিত্তিতে হুথিদের দোষী সাব্যস্ত করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং ইসরায়েলের দিকে ইঙ্গিত করে একে 'ফলস ফ্ল্যাগ' অপারেশন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, চীন গোপনে ইরানের মাধ্যমে হুথিদের শান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে, সৌদি আরবের সঙ্গে মক্কা চুক্তি থাকায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, এখন সেই চুক্তি বাস্তবায়নের সময়। এরই অংশ হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ফোনে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি দাবি করেছেন, তায়েজ ও মারিবসহ একাধিক ফ্রন্টে হুথিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং লোহিত সাগরে তাদের অবস্থান সাময়িক।





