ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে বিধবার টিপসই নিয়ে ভুয়া বিয়ে

Published: October 8, 2026, 9:25 am

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবা নারীর (৪৩) টিপসই নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া বিয়ের কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াত নেতা আবদুস ছাত্তার ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে কৌশলে টিপসই নিয়ে এই জালিয়াতি করেছেন। তবে ওই নারী কোনো বিয়েতে সম্মতি দেননি এবং কোনো কাজিকেও দেখেননি বলে দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী নারীর স্বামী প্রায় ১৩ বছর আগে মারা যান। এরপর অন্যের জমিতে কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করে বিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর নাতি-নাতনিও রয়েছে। অন্যদিকে, ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় বর হিসেবে নাম থাকা স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসেরও স্ত্রী, সন্তান ও নাতি-নাতনি আছে। কুদ্দুস এর আগেও বিভিন্ন সময় ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কখনো রাজি হননি।

ছড়িয়ে পড়া কাবিননামাটিতে আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর এবং ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের কথা উল্লেখ রয়েছে। এতে বিয়ে সম্পন্নকারী হিসেবে কাজি গোলাম মোস্তফার নাম এবং সাক্ষী হিসেবে আবদুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের নাম রয়েছে। তবে সাক্ষী সাইফুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি এমন কোনো বিয়ের সাক্ষী হননি। কাজি গোলাম মোস্তফাও বিয়ে সম্পন্ন করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এই কাগজটি সম্পূর্ণ জাল। এর আগে ২০২০ সালেও এমন একটি জাল কাগজ তৈরির ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। এবারও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।

অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার নিজেকে জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন এবং তাঁর একটি কসমেটিকসের দোকান রয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে তিনি কোনো টিপসই নেননি; জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। এদিকে আবদুল কুদ্দুসের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন জানান, তাঁর স্বামী বিয়ের বিষয়ে আগে কিছুই জানাননি। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর কুদ্দুস দাবি করেন যে তিনি ‘কোর্ট ম্যারেজ’ করেছেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি কারও কথা শোনেননি। বুধবার সন্ধ্যায় কুদ্দুসের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক জানান, আবদুস ছাত্তার দলের কোনো পদধারী নেতা নন, বিগত নির্বাচনের সময় একটি কেন্দ্র কমিটির সহযোগী সদস্য ছিলেন এবং আগে তিনি বিএনপি করতেন। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচার চান তারা। তবে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি সাজানো বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে, এ ঘটনা নিয়ে গত সোম ও বুধবার এলাকায় দুই দফা সালিস বৈঠক বসেছে। তবে অভিযুক্ত ছাত্তার ও কুদ্দুস সেখানে উপস্থিত হননি। সালিসের নেতৃত্ব দেওয়া মোহাম্মদ রুস্তম আলী জানান, তাঁদের আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। সমাধান না হলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে।

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানান, ঘটনাটি তাঁরা অনেকের মুখে শুনেছেন। তবে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo