সিলেটের বিশ্বনাথে বিএনপির দুটি পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পৌর শহরের ডাকবাংলো ও এর আশপাশের এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। এর আগে বুধবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহেদ বিন কাশেম এই আদেশ জারি করেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে বিশ্বনাথ পৌরসভার কলেজ রোড এলাকার ডাকবাংলো ও তার আশপাশে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, লাঠি বা অস্ত্র বহন এবং পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের বিষয়টি জানিয়ে বুধবার রাত থেকেই পৌর শহরে মাইকিং করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা কবির হোসেন ধলা মিয়ার পক্ষ এবং ইসবপুর গ্রামের বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী হাজী সফির মিয়ার পক্ষের মধ্যে একটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরে দুই পক্ষই বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বিশ্বনাথ পৌর শহরের একই স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ডাক দেয়।
এর মধ্যে চেয়ারম্যান ধলা মিয়ার পক্ষে উপজেলা ও পৌর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের ব্যানারে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। অন্যদিকে, হাজী সফির মিয়ার সমর্থনে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে একই স্থানে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। মুখোমুখি এই কর্মসূচির কারণে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলে প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় দলটির নেতারা জানান, প্রশাসনের ১৪৪ ধারা মেনে সবাইকে শান্ত থাকতে হবে। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের ঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার পক্ষ।
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান জানান, সকাল থেকেই পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে শহরের সাধারণ মানুষের চলাচল এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।





