রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মানসিক রোগে আক্রান্ত এক ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রের (রিহ্যাব সেন্টার) দুই কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে উত্তরায় অবস্থিত সেন্টারটিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের আটক করে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. জুয়েল রানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের লাইটহাউস রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের কর্মী মো. জসিম উদ্দিন ওরফে পলাশ (৪৭) ও মো. আমিনুর ইসলাম (৪২)। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত হাতকড়াটি জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়, যার প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযানে নামে।
ঘটনাটি নিয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাতে ৪-৫ জন ব্যক্তি মোহাম্মদপুর থানার স্যার সৈয়দ রোডের একটি বাসায় প্রবেশ করেন। তারা ৬৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে জোরপূর্বক নিচে নামিয়ে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। এ সময় ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছেন এবং তার পরিবারের সদস্যরা পৃথক স্থানে বসবাস করেন। চিকিৎসার জন্য তার ছোট ভাই তাকে উত্তরার ওই রিহ্যাব সেন্টারে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। এর আগেও তাকে একই সেন্টারে নেওয়া হয়েছিল। উত্তরা পশ্চিম থানার সহায়তায় রিহ্যাব সেন্টারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
পুলিশ কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানা জানান, অসুস্থ ব্যক্তিকে হাতকড়া পরানোর কোনো আইনগত অনুমোদন রিহ্যাব সেন্টারের নেই। রিহ্যাব সেন্টারের মালিকের কাছে হাতকড়া ব্যবহারের আইনগত বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলেও তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, কিছু ব্যক্তিকে রিহ্যাবে নেওয়ার সময় তারা হাতকড়া ব্যবহার করে থাকেন।
আটক ব্যক্তিদের ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেবেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।





