ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশন। দুটি পৃথক বিমান হামলায় অন্তত ১৭৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনায় এই অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, একই প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের শেষভাগ ও চলতি বছরের শুরুতে ইরানি কর্তৃপক্ষের সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নকেও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মিশন জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। অভিযানের প্রথম দিনেই মার্কিন বাহিনী মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে ১২০ শিশুসহ দেড় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারান। তদন্তে উঠে এসেছে যে, স্যাটেলাইট চিত্র, দেয়ালের চিত্রকর্ম এবং শিশুদের খেলার মাঠ দেখে স্কুলটি স্পষ্টতই বেসামরিক স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র কোনো সতর্কতা অবলম্বন করেনি।
একই দিনে লামার্দ শহরের একটি আবাসিক এলাকা ও ক্রীড়া কমপ্লেক্সে প্রিসিশন স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে ক্ষতিকর টাংস্টেন পেলেট বর্ষণ করা হয়, যাতে ২২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এই তদন্ত প্রতিবেদনটি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে জমা দেয়া হবে।
মিনাবের ঘটনাটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ‘ভুল’ বলে অভিহিত করলেও পেন্টাগন এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে লামার্দে হামলার অভিযোগটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড অস্বীকার করেছে। এছাড়া প্রতিবেদনে ইরানে গণবিক্ষোভ দমনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডকেও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ইন্টারনেট বন্ধ, বেআইনি হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও বিচারহীনতার মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে। তথ্যানুসন্ধান মিশন অবিলম্বে উভয় পক্ষকে সংঘাত বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।





