বঙ্গোপসাগরকে সংঘাতের বদলে সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে চায় বাংলাদেশ

Published: October 6, 2026, 3:58 am

বঙ্গোপসাগরকে সংঘাতের ক্ষেত্র না বানিয়ে বাংলাদেশ শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার একটি অঞ্চল হিসেবে টিকিয়ে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর শেষ দিনে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের গুরুত্ব বৃদ্ধির সাথে সাথে বঙ্গোপসাগর এখন বিশ্ব ভূ-রাজনীতির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হলো জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা এবং উন্নয়নের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতায় কোনো পক্ষ বেছে নেওয়ার চেয়ে পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সবার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখাই বাংলাদেশের লক্ষ্য। মতপার্থক্য থাকলে তা সংলাপের মাধ্যমে আলোচনার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।

অর্থনৈতিক কূটনীতিকে পররাষ্ট্রনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে বাজার সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও দেশীয় পণ্যের নতুন সুযোগ তৈরিতে আরও সক্রিয় হতে হবে। তিনি আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য, জ্বালানি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান। পাশাপাশি সাইবার, খাদ্য, পানি, জলবায়ু ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো অপ্রচলিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আন্তদেশীয় সহযোগিতার ওপর জোর দেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তির হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিলেও মানবিক সহায়তা এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধান নয়। এর জন্য রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সমাধানের মাধ্যমে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

একই সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ নিয়েও বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন। অ্যাকাউন্টেবিলিটি ল্যাব পাকিস্তানের নির্বাহী পরিচালক ফাইয়াজ ইয়াসিন বলেন, সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থার ঘাটতি থাকলে কেবল প্রযুক্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। এই অবস্থায় এআই সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়াকে দ্রুত করবে, নাকি আরও ১০-১৫ বছর সমস্যা সমাধান না করার অজুহাত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্স বাংলাদেশের পরিচালক শেখ মোহাম্মদ দানিয়াল বলেন, সিস্টেম সংস্কার না করে ডিজিটাল ব্যবস্থা বা এআই যুক্ত করলে মানুষের আস্থা তৈরি হবে না। এআই গবেষক শিমেলসে মেকোনেন স্থানীয় বাস্তবতা ও তথ্যের স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দেন। সোলশেয়ারের প্রধান নির্বাহী সেবাস্তিয়ান গ্রোহ এবং নেপালের নারায়ণ অধিকারী প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষের অংশগ্রহণ ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া সিটি ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের অধ্যাপক মার্কো স্কোরিক সতর্ক করে বলেন, অ্যালগরিদমের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মানুষের মধ্যে ভিন্নমতের প্রতি অনীহা ও আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin