কুড়িগ্রাম সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিক মনে করে ভারতের দুই নাগরিককে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ওই দুই ব্যক্তি ভারতের আসাম রাজ্যের মানকারচর থানার বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন। তারা বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি নিরাপত্তায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের নাম আব্দুল আলিম ও ইসমাইল হাসান।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ অক্টোবর। আহত ব্যক্তিরা জানান, ওইদিন তারা সীমান্তবর্তী এলাকায় নিজেদের গরুকে নদীতে গোসল করাচ্ছিলেন। এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা তাদের আটক করেন। তাদের অভিযোগ, নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরও বিএসএফ সদস্যরা তাদের মারধর করেন এবং বাংলাদেশে চলে যেতে বাধ্য করেন। অন্যথায় মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে মৃত ভেবে তাদের বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ফেলে রাখা হয় বলে তারা দাবি করেন।
পরবর্তীতে প্রাণ বাঁচাতে তারা নদী পেরিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করেন। রোববার বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন মাঝি তাদের আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। মাঝিরা তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরবর্তীতে পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে তাদের হেফাজতে নেয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
সোমবার দুপুরে হাসপাতালের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, দুজনের শরীরেই গুলির আঘাত রয়েছে এবং তারা গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতাল এলাকায় তাদের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ দুই ভারতীয় নাগরিককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখভাল করছে। এদিকে বিজিবি রংপুর রিজিয়নের একজন কর্মকর্তা জানান, তারা বিষয়টি অন্য মাধ্যমে জানতে পেরেছেন এবং ভুক্তভোগীরা সুস্থ হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আহত আব্দুল আলিম ও ইসমাইল হাসান জানিয়েছেন, তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে চান। তারা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া তারা দাবি করেছেন, যদি তাদের কোনো অপরাধ থেকে থাকে তবে ভারতের আইন অনুযায়ী যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বর্তমানে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।





