চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল জয়ী ডেইসেরথ, হেগম্যান ও নাগেল

Published: October 5, 2026, 10:10 am

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ বছরের নোবেল পুরস্কার যৌথভাবে পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডেইসেরথ এবং জার্মানির পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল। সোমবার বিকেলে সুইডেনের স্টকহোমে নোবেল কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের প্রথম বিভাগ হিসেবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিকস সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

নোবেল কমিটির তথ্য অনুযায়ী, পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল ‘চ্যানেলরোডপসিন’ নামক একটি প্রোটিন আবিষ্কার করেন। গবেষণায় দেখা যায়, কোনো কোষে এই প্রোটিন প্রবেশ করালে কোষটি আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে কার্ল ডেইসেরথ ইঁদুরের স্নায়ুকোষে এই প্রোটিনের জিন প্রবেশ করান এবং নীল আলো প্রয়োগের মাধ্যমে স্নায়বিক সংকেত সক্রিয় করতে সক্ষম হন। তিনি প্রমাণ করেন যে, জীবিত ইঁদুরের মস্তিষ্কেও আলো ব্যবহার করে স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের এই পদ্ধতি কার্যকর।

আলোর মাধ্যমে স্নায়বিক সংকেত নিয়ন্ত্রণের এই প্রযুক্তিই পরবর্তীতে ‘অপটোজেনেটিকস’ নামে পরিচিতি পায়। বর্তমানে স্নায়ুবিজ্ঞানের গবেষণায় কোষের কার্যক্রম বোঝা ও তা নিয়ন্ত্রণে এই পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ পর্যন্ত মোট ২৩২ জন ব্যক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এই বিভাগে সর্বকনিষ্ঠ বিজয়ী ছিলেন কানাডার ফ্রেডেরিক ব্যান্টিং, যিনি ৩১ বছর বয়সে পুরস্কারটি পান। অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি বয়সে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পাওয়ার রেকর্ডটি যুক্তরাষ্ট্রের পেটন রোসের দখলে, যিনি ৮৭ বছর বয়সে এই সম্মাননা পান। প্রসঙ্গত, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ‘পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স’ নিয়ে গবেষণার জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরি ই ব্রাঙ্কো ও ফ্রেড রামসডেল এবং জাপানের শিমন সাকাগুচি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy