আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কেউ কোনো দুরভিসন্ধি বা অশুভ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে সরকার তা কোনোভাবেই সহ্য করবে না। রোববার বিকেলে ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ঢাকা জেলা ও মহানগর এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন গত বছরের তাঁতীবাজারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেই ঘটনায় জড়িতদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা পাওয়া গিয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় সেখানে কোনো নিরাপত্তাকর্মী বা স্বেচ্ছাসেবী উপস্থিত ছিল না। এবারের পূজা ঘিরে নিপুণ রায় চৌধুরীর দেওয়া ইঙ্গিতের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার কোনো অপচেষ্টা সরকার টলারেট করবে না। তিনি আরও বলেন, কাউকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার ইচ্ছা সরকারের নেই, তবে দুরভিসন্ধি করলে তার পরিণতি ভালো হবে না—এই বার্তাটি সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা-৬ আসনের পূজামণ্ডপের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, কোতোয়ালি থানায় ২০টি, বংশাল থানায় ৩টি, সূত্রাপুর থানায় ২৫টি, ওয়ারী থানায় ১৯টি এবং আরও একটি থানায় ১৬টি মণ্ডপ রয়েছে। পূজা কমিটির তালিকা ও বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহানগর দক্ষিণ পূজা কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটি তালিকা নির্ধারণ করে থাকে, কোনো রাজনৈতিক দল নয়। পূজামণ্ডপে গরমিল করে চাল বরাদ্দের মতো বিষয়গুলো অনুচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পূজার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাস্তাঘাট সংস্কার ও স্ট্রিট লাইট ঠিক করার জন্য সিটি করপোরেশনের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। স্বেচ্ছাসেবকদের বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, পূজা কমিটির মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা যাচাই ও পরিচয়পত্র প্রদান করলে তা ইতিবাচক হবে। ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সংরক্ষিত মহিলা আসন-১১-এর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন এবং ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ।





