দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় অবহেলা বরদাশত নয়: প্রতিমন্ত্রী টুকু

Published: October 4, 2026, 2:42 pm

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তবে তদন্তসাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঢাকা জেলা ও মহানগর এলাকার পূজামণ্ডপসমূহের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত এই প্রতিমন্ত্রী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে একে অপরের ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিয়ে সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করে আসছে এবং এই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, "এ দেশে সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু হিসেবে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই—আমরা সবাই বাংলাদেশি।" তিনি সকলকে দেশপ্রেম বুকে ধারণ করে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয় প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং মহানগর এলাকায় ডিএমপি কমিশনার ও আইজিপির সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। পূজা শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি ও মহড়া জোরদার করার পাশাপাশি ভোররাতের নিরাপত্তা ও পাহারা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন তিনি।

পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিজ নিজ মন্দির ও মণ্ডপের নিরাপত্তার প্রাথমিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কমিটিকে নিতে হবে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানাতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পূজামণ্ডপে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে নারী ও পুরুষদের চলাচলের জন্য পৃথক যাতায়াত ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ এবং মণ্ডপের নিরাপত্তায় আনসার সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা কমিটিকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। বিসর্জনকে কেন্দ্র করে মাদক সেবনসহ যেকোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড রোধে সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সংরক্ষিত মহিলা আসন-১১ এর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন এবং ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। সভায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin