অস্ত্র আইনের একটি মামলায় নামের মিল থাকায় ১০ মাসের বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দী আছেন এক ব্যক্তি। তিনি দাবি করেছেন, প্রকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিবর্তে তাঁকে ভুল করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই জটিলতা নিরসনে এবং দণ্ডিত ব্যক্তি ও কারাবন্দী আলমাছের পরিচয় যাচাইয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ৬ সেপ্টেম্বর বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।
আদালত ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তাঁর তত্ত্বাবধানে একজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারকে সহায়তা করতে বলা হয়েছে। আদেশ পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে এবং আগামী ৫ নভেম্বর বিষয়টি পরবর্তী শুনানির জন্য কার্যতালিকায় থাকবে। রিট আবেদনকারীকে কেন পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা–ও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০০২ সালের ১০ এপ্রিল মিরপুর থানায় দায়ের করা অস্ত্র আইনের মামলায় ২০০৪ সালের ১৯ জুন ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১১ রায় দেন। রায়ে দোহারের দক্ষিণ বাহ্রার মো. খলিল আহমেদের ছেলে মো. আলমাছকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত ব্যক্তি পলাতক ছিলেন। এদিকে, বর্তমানে কারাগারে থাকা আলমাছের দাবি, তাঁর নাম মো. আলমাছ, বাবা শেখ খলিল, গ্রাম সুন্দরীপাড়া, দোহার। রিট আবেদনে বলা হয়েছে, ২০০২ সালে মামলাটি দায়েরের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর ৪ মাস, অথচ এজাহারে আলমাছের বয়স ২৪ বছর উল্লেখ ছিল।
কারাবন্দী আলমাছ জানিয়েছেন, ২০১৮ সালেও নামের মিল থাকায় তাঁকে একবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তবে স্থানীয় চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে জিম্মানামার (প্রসেস নং-১৬/২০১৭) মাধ্যমে তখন তিনি মুক্তি পান। ওই প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ ছিল, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রায় ২৫ বছর আগে বাড়িঘর বিক্রি করে চলে গেছেন এবং বর্তমান রিট আবেদনকারী প্রকৃত আসামি নন। ২০০৫ বা ২০০৬ সালে নদীভাঙনে তাঁর বাড়িঘর বিলীন হয়ে যায়। ২০২৪ সালের ২০ মার্চের পরোয়ানার ভিত্তিতে গত বছরের ৫ নভেম্বর পুলিশ তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে। তাঁর আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ জানান, আসামির নাম ও বাবার নামের আংশিক মিল থাকায় এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, যা রোধে আসামির পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ডিজিটালাইজেশন পদ্ধতি প্রবর্তন করা জরুরি।





