ইয়েমেনের তাইজে তুমুল সংঘর্ষে ১৫৪০ হুতি সেনা হতাহতের দাবি

Published: October 4, 2026, 6:19 am

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কৌশলগত তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে অন্তত ১ হাজার ৫৪০ জন হুতি যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার। বিভিন্ন রণাঙ্গনে হুতিদের অবস্থান, রসদপত্র সরবরাহ ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর পর এই বিপুলসংখ্যক হতাহতের দাবি করা হলো।

ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি জানিয়েছেন, হুতিদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে বিমান হামলা, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেট লঞ্চারের সাহায্যে মোট ৪৭৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানের মধ্যে তাইজ প্রদেশেই সবচেয়ে বেশি হুতি যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে হুতিদের বিরুদ্ধে ৭১টি অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছিল ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী।

গত কয়েক সপ্তাহে তাইজের বানি বাকারু, মাকবানাহ, আল-আকরুদ এবং তাইজ শহরের উত্তর ও পূর্ব প্রবেশপথসহ বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতির মুখে গতকাল শনিবার গুরুত্বপূর্ণ আল-হুবান ক্রসিংটি বন্ধ করে দিয়েছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। এই সড়কটি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা আল-হুবানের সঙ্গে সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা তাইজ শহরকে সরাসরি যুক্ত করেছে。

ক্রসিংটি বন্ধ করার বিষয়ে ইয়েমেন সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হুতিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা, সড়কের কাছাকাছি হামলা এবং ওই এলাকায় তাদের সামরিক শক্তি বাড়ানোর কারণে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। তাই হুতিদের অগ্রযাত্রা রুখতে এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্রের বরাতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ৯ বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালে ‘মানবিক কারণে’ বেসামরিক নাগরিকদের চলাচলের জন্য এই ক্রসিংটি খুলে দেওয়া হয়েছিল। নতুন করে এটি বন্ধ হওয়ায় দুই পক্ষের নিয়ন্ত্রিত এলাকার বেসামরিক যোগাযোগ আবার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।

পাহাড়ি অঞ্চল ও লোহিত সাগর উপকূলের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে তাইজ প্রদেশটি শুরু থেকেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর দীর্ঘ সময় এখানে পরিস্থিতি শান্ত ছিল। তবে গত জুলাইয়ে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। এরপর গত সেপ্টেম্বরে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দরসহ ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের কিছু এলাকা হুতি বিদ্রোহীরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। অবশ্য সরকারপন্থী বাহিনী পরে জানায়, তারা বেশ কয়েকটি ফ্রন্টলাইনে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে এবং কৌশলগত অবস্থানগুলো পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছে।

নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে আবারও বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। দেশটির বাস্তুচ্যুত মানুষের ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা-বিষয়ক একটি সরকারি নির্বাহী ইউনিটের তথ্যমতে, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ৯৮ হাজার মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সংস্থাটি গত বৃহস্পতিবার জানায়, বাস্তুচ্যুত মানুষদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে তাইজ প্রদেশটি শীর্ষে রয়েছে। বর্তমানে এই প্রদেশের ১৫টি শহরজুড়ে ১৩ হাজার ৯২৫টি পরিবারের ৯৭ হাজার ৫২৯ জন সদস্য আশ্রয় নিয়ে আছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে উত্তর ইয়েমেনের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিলে এই গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পক্ষে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এই যুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo