পুঠিয়ায় বিদ্যালয়ে তালা ও মাঠে কলাগাছ রোপণ করলেন সাবেক দাতা সদস্য

Published: October 3, 2026, 3:45 pm

রাজশাহীর পুঠিয়ায় অবস্থিত ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুলে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক দাতা সদস্য আজাদ আলী শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দিয়েছেন এবং বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে কলাগাছ রোপণ করেছেন।

আজাদ আলীর অভিযোগ, তাঁর পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়া এবং বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করার কারণেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা জানিয়েছেন, আজাদ আলীর পুত্রবধূকে নিয়ম অনুযায়ী চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

বিদ্যালয়টি ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠার সময় ‘মুক্তিযাদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে পরিচিত ছিল। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশে এর নাম পরিবর্তন করে ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ রাখা হয়। তৎকালীন দাতা সদস্য আজাদ আলী নিজেই এই নাম প্রস্তাব করেছিলেন বলে রেজুলেশনে উল্লেখ রয়েছে। ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি পেলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি।

স্থানীয় দোকানদার লাল মোহাম্মদ জানান, আজাদ আলীর এই কর্মকাণ্ডের ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি নিতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।

আজাদ আলী দাবি করেন, জমি দান করার সময় সেখানে টেকনিক্যাল কলেজ করার শর্ত ছিল এবং তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূর চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই শর্ত পূরণ হয়নি। তবে প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, আজাদ আলী নিঃশর্তভাবে জমি দান করেছিলেন। পরে কমিটি বাধ্য হয়ে তাঁর ছেলেকে ভোকেশনাল শাখায় ও পুত্রবধূকে প্রাথমিক শাখায় চাকরির সুযোগ দিয়েছিল। পুত্রবধূ মারা যাওয়ার পর আজাদ আলী তাঁর ছেলেকে দ্বিতীয় বিয়ে করিয়ে সেই নতুন বউকেও মাধ্যমিক শাখায় কেরানি পদে নিয়োগ দিতে চাপ দেন এবং কমিটি তাতে সম্মত হয়েছিল। এর প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে একটি মামলা করেন, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ভালুকগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দাতা সদস্যের দাবি সঠিক নয়। গত ১০ সেপ্টেম্বর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড নতুন ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন দিয়েছে এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি ফিরে এসে দ্রুত প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থী থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা যাবে না।

৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়ে প্রতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চালু করতে বলেছিলেন।

চাকরি করা অবস্থায় ২০২২ সালে তিনি মারা যান।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo