আদালতে হেলমেট ছুড়ে ফেলা ও বিচারককে নিয়ে মন্তব্য আখতারুজ্জামানের

Published: October 3, 2026, 2:30 pm

জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে শুক্রবার গ্রেপ্তারের পর শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু পরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান থেকে নামার সময় তিনি মাথায় থাকা হেলমেট ছুড়ে ফেলে দিয়ে আবারও আলোচনার জন্ম দেন। শুনানিকালে তিনি বিচারককে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন এবং আদালতের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী জানান, আখতারুজ্জামান আদালতকে হেয় প্রতিপন্ন করার পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছেন। শুনানির সময় তিনি পুলিশ ও সাংবাদিকদের আদালত থেকে বের করে দিতে বলেন এবং বিচারককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি আর কী রায় দেবেন, রায় তো দেবেন তারেক রহমান।’ আদালত তাকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানালে তিনি আক্রমণাত্মক আচরণ অব্যাহত রাখেন। তবে আখতারুজ্জামানের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, তার মক্কেল আদালতে সুন্দর বক্তব্য দিয়েছেন এবং পিপি নিজেই তাকে হেয় করে কথা বলেছেন। আইনজীবীর মতে, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানিমূলকভাবে দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে তাঁর আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট ডিওএইচএসের বাসা থেকে ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হন আখতারুজ্জামান। বিমানবন্দরের ট্রলি ও লাগেজ সংকট নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং নির্বাহী পরিচালককে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এই মামলাটি হয়। বিমানবন্দর থানার এসআই মাজেদুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতে নেওয়ার সময় প্রিজন ভ্যান থেকেই তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রের অব্যবস্থাপনা আর চলতে পারে না। ভ্যান থেকে নামার সময় এক পুলিশ সদস্য তাকে সহায়তা করতে গেলে তিনি ‘ডোন্ট টাচ মি’ বলে চিৎকার করেন। বাইরে তখন জামায়াতের নেতা–কর্মীরা ‘নারায়ে তাকবির’ বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন। পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আখতারুজ্জামানকে লিফটে আদালত ভবনের ৮ তলায় নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, আদালতের কাঠগড়ায় আসামির হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়।

আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ‘রাতের ভোট’ নামে পরিচিত ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে আখতারুজ্জামান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নৌকার প্রার্থীর কাছে হেরে যান। দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁকে পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে গত ১৩ ডিসেম্বর তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। আদালত প্রাঙ্গণে তিনি পুনরায় জামায়াতের হয়ে সংগ্রামের বার্তা দেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo