নিম্নমানের বই সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

Published: October 3, 2026, 1:46 pm

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এহছানুল মিলন জানিয়েছেন, পাঠ্যপুস্তক ছাপার ক্ষেত্রে গুণগত মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, নিম্নমানের বই সরবরাহের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে যেসব নিম্নমানের বই পাওয়া গেছে, সেগুলো বাতিল ও নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের ক্ষেত্রে কাগজ, কালি এবং ছাপাখানার মানের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী দেশীয় মুদ্রণশিল্প গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহী হওয়ায় এ বছর কোনো বিদেশি কোম্পানিকে মুদ্রণের কাজ দেওয়া হয়নি। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, বিগত সময়ের মতো ভবিষ্যতেও সময়মতো মানসম্মত বই সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

মিড ডে মিল কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, বর্তমানে ১৫০টি উপজেলায় এই কর্মসূচি চালু রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে। মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে কুপন ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিন থেকে খাবার কিনতে পারবে। এছাড়া খাদ্য তালিকায় নতুন খাবার যুক্ত করা এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সরবরাহ প্রক্রিয়া বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা প্রথমে কয়েকটি জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হবে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শ্রেণিতে স্পোর্টস ও কালচারাল বই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করা হচ্ছে এবং প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে তৃতীয় ভাষা চালু করা হবে। এছাড়া সৌদি আরবেও টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে মন্ত্রী জানান, আগামীতে দুই সেট প্রশ্ন দুই জায়গা থেকে—বিজি প্রেস ও আর্মি সিকিউরিটি প্রেস থেকে—প্রস্তুত করা হবে। পরীক্ষার সময় বর্ষাকালীন দুর্যোগ এড়াতে এবং শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচাতে যথাযথ সময়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এছাড়া পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বাস্তবতার নিরিখে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংলাদেশকে 'এডুকেশন হাব' হিসেবে গড়ে তুলতে ক্রস বর্ডার এডুকেশন সিস্টেম চালু করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক মানের বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে শাখা খুলতে পারে।

কচুয়ার সামগ্রিক উন্নয়নে স্থানীয়দের শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দক্ষ জনবল তৈরির জন্য কারিগরি ও উৎপাদনমুখী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। কচুয়ার প্রতিটি সেক্টরের উন্নয়নে সেখানে শেডো মিনিস্টার ও কমিটি গঠন করা হবে বলেও তিনি জানান।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh