মানুষের শরীরে জীবন্ত প্রাণী প্রবেশের ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং একইসঙ্গে বিপজ্জনক। সম্প্রতি ২০২৪ সালে বাংলাদেশের এক ৫৫ বছর বয়সী জেলের পেটে প্রচণ্ড ব্যথা ও মারাত্মক সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির ঘটনাটি আন্তর্জাতিক চিকিৎসা মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই অদ্ভুত ও বিরল ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব সার্জারি কেস রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মাছ ধরার সময় ওই ব্যক্তির পায়ুপথ দিয়ে একটি জীবন্ত বাইম মাছ শরীরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। লোকলজ্জার ভয়ে তিনি বিষয়টি গোপন রাখেন এবং আশা করেছিলেন মাছটি নিজে থেকেই বেরিয়ে যাবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। বাংলাদেশ ও নেপালের চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত একটি মেডিক্যাল টিম দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। এক্স-রে ও অন্যান্য স্ক্যান রিপোর্টে দেখা যায়, রোগীর অন্ত্রের প্রাচীর ভেদ হয়ে গেছে এবং পেটে মারাত্মক সংক্রমণের লক্ষণ তৈরি হয়েছে।
জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করে চিকিৎসকেরা রোগীর কোলন থেকে প্রায় ২৬ ইঞ্চি লম্বা একটি জীবন্ত বাইম মাছ সফলভাবে বের করে আনেন। এই গবেষণায় বাংলাদেশের চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী মবিন ইবনে মকবুল, সৌমিক রায়, অমর্ত্য নারায়ণ রায়, মোস্তফা নওয়াজ এবং নেপালের বিজ্ঞানী অমৃতা শ্রেষ্ঠা যুক্ত ছিলেন। কেস রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বাইম মাছের মতো জীবন্ত প্রাণী মানুষের অন্ত্রের দেয়াল ছিদ্র করে ফেলেছে, এমন ঘটনা আগে খুবই বিরল ছিল। এর আগে ২০০৪ সালে হংকংয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মলদ্বারে বাইম মাছ ঢুকিয়ে নিয়েছিলেন, যা অনেকটা এই ঘটনার মতো।
বর্তমান এই ঘটনায় রোগীর সিগময়েড কোলনে প্রায় ৫ সেন্টিমিটার বা ২ ইঞ্চি আয়তনের একটি ফুটো তৈরি হয়েছিল, যা জীবননাশক পেরিটোনাইটিস সংক্রমণের কারণ হতে পারত। চিকিৎসকদের সময়োচিত সার্জারি ও কোলস্টমি সম্পন্ন করার ফলে রোগীর অবস্থা দ্রুত উন্নতির দিকে যায় এবং চার দিন পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ঘটনার পর চিকিৎসকেরা রোগীদের কাছ থেকে অতীতের ইতিহাস জানার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। গবেষকরা মত প্রকাশ করেছেন যে, পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে আসা রোগীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের অস্বস্তিকর বা অস্বাভাবিক কারণগুলোও বিবেচনায় রাখা উচিত, কারণ সঠিক সময়ে রোগনির্ণয় ও অস্ত্রোপচার না হলে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারত।





