কর্মজীবী নারীদের জন্য দেশজুড়ে আধুনিক ডে-কেয়ার সেন্টার করা হবে: ডা. জাহিদ

Published: September 17, 2026, 12:56 pm

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (2026): কর্মজীবী নারীদের কর্মক্ষেত্রে নিশ্চিন্তে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং শিশুদের নিরাপদ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি শহর, উপশহর ও জনাকীর্ণ এলাকায় আধুনিক মানসম্পন্ন ডে-কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের জন্য তিনি শিল্প মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগ কিংবা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব। দেশজুড়ে শিশুদের সুরক্ষামূলক এই সামাজিক উদ্যোগ জোরদার করতে আগ্রহী শিল্প মালিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় নবনির্মিত একটি আধুনিক ‘ডে-কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে ৪৮ ও ৪৯তম বেসিক ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্স সম্পন্নকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমীন এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। তিনি আরও বলেন, কর্মজীবী মায়েরা যদি মানসিকভাবে শান্তিতে ও উদ্বেগমুক্ত না থাকেন, তবে তাদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ সেবা পাওয়া সম্ভব নয়। মায়েদের মানসিক স্বস্তি ও শিশুদের সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এই ডে-কেয়ার সেন্টারগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির অধীনে এই আধুনিক ডে-কেয়ার সেন্টারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শিশুদের প্রারম্ভিক সুরক্ষায় দেশের অন্যান্য জনবহুল এলাকাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে এ ধরনের সেন্টার স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রশিক্ষণ শেষ করা কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ফলে শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে নারীদের কাজ করার সুবিধার্থে ডে-কেয়ার সেন্টারের চাহিাদ্দও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বাস্তবতাকে বিবেচনা করেই আধুনিক এই কেন্দ্রটি প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এদেশের প্রকৃত মালিক ১৮ কোটি সাধারণ জনগণ। সরকারি সেবাপ্রাপ্তির মাধ্যমে জনগণ যেন অনুভব করতে পারে যে তারাই রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমীন বলেন, কর্মজীবী মায়েদের কাজের দক্ষতা ও সেবার মান অনেকাংশেই নির্ভর করে তাদের সন্তানেরা কতটা নিরাপদ পরিবেশে রয়েছে তার ওপর। এই নবনির্মিত আধুনিক কেন্দ্রটি প্রশিক্ষণার্থী ও কর্মরত মায়েদের কাজের মান বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি প্রশিক্ষণ শেষ করা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-দের সরকারি সিদ্ধান্তগুলো দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন।

ভূমি প্রশাসনের এই নতুন ডে-কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহায়তায় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৭৫০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আসা নারী প্রশিক্ষণার্থীরা তাদের সন্তানদের নিরাপদ হেফাজতে রেখে নিশ্চিন্তে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও শিশুবান্ধব পরিবেশের এই সেন্টারে রয়েছে প্রশিক্ষিত আয়া দ্বারা সার্বক্ষণিক নিবিড় পরিচর্যা, শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ ও বিনোদনের ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসম্মত ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার। সরকারি ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই ডে-কেয়ার সেন্টারের কার্যক্রম চালু থাকবে।

উদ্বোধন পর্ব শেষে মন্ত্রী আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে ডে-কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন এবং সেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর তিনি ৪৮ ও ৪৯তম বেসিক ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই আধুনিক ডে কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারটি স্থাপন করা হয়। এর ফলে ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আগত নারী প্রশিক্ষণার্থীরা তাদের সন্তানদের নিরাপদ হেফাজতে রেখে নিশ্চিন্তে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন। নবনির্মিত এ সেন্টারে রয়েছে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত আয়া দ্বারা সার্বক্ষণিক নিবিড় পরিচর্যা, শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ ও বিনোদনের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসম্মত ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার এবং সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শিশুবান্ধব পরিবেশ। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহায়তায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ও ব্যবস্থাপনায় ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রায় ৭৫০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে ডে-কেয়ার সেন্টারটি স্থাপন করা হয়েছে। ডে কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারের কার্যক্রম প্রতিদিন সকাল ৮.৩০ টা থেকে বিকেল৪.৩০ টা পর্যন্ত পরিচালিত হবে। সরকারি ছুটির দিনগুলোতে কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh