মাদারীপুরের শিবচরে বাড়ছে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ

Published: October 2, 2026, 7:54 am

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু এবং তরুণ-যুবকদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন জ্বর নিয়ে অসংখ্য মানুষ ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য আসছেন। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি অনেক রোগী বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১১৪ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। আজ শুক্রবারও হাসপাতালে শিশু, যুবক ও বয়স্কসহ ১১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ডেঙ্গুর পাশাপাশি সম্প্রতি শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণও ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে। চলতি মৌসুমে মোট ১৩৬ জন হামের রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ৩০ জন ভর্তি ছিলেন। বর্তমানে ৫ জন হামের রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া প্রতিদিন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সাধারণ ও মৌসুমী জ্বরে আক্রান্ত শিশু এবং বয়স্ক রোগীদের ভিড় লেগেই থাকছে। চিকিৎসকেরা জানান, বর্তমান মৌসুমে জ্বর হলে শরীর অস্বাভাবিক দুর্বল হয়ে পড়ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, জ্বর হওয়ার পর পরীক্ষা করালেই ডেঙ্গু ধরা পড়ছে এবং রোগীরা অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়ছেন। আকলিমা বেগম নামের এক রোগীর স্বজন হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও কাঙ্ক্ষিত সেবার অভাব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে জুলেখা নামের আরেক রোগীর স্বজন জানান, তার রোগী পাঁচ দিন ধরে ভর্তি আছেন। প্লাটিলেট বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় দু-এক দিনের মধ্যে তারা বাড়ি ফেরার আশা করছেন।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. ইব্রাহিম মিয়া জানান, গত দুই মাস ধরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চলতি মাসেও আক্রান্তের হার বেশি থাকতে পারে, তবে এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। ডেঙ্গু ও শিশুদের হামের সংক্রমণ বাড়লেও অধিকাংশ রোগীই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy