দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পর্তুগালের লাল-সবুজ জার্সিতে যিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য এবং যার উপস্থিতি প্রতিপক্ষের মনে ভয়ের সঞ্চার করত, সেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে হঠাৎ করেই এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ের সমাপ্তির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কোপেনহেগেনে জাতীয় দলের টিম হোটেলের লবি থেকে তার নিঃশব্দ প্রস্থান ফুটবল বিশ্বে এক বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—পর্তুগিজ যুবরাজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার কি তবে এখানেই শেষ?
এই আকস্মিক ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে এক দৃশ্যমান টানাপোড়েন। পর্তুগাল দলের নতুন কোচ হোর্হে জেসুসের সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার পরপরই পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। এরপরই আল নাসের তারকা রোনালদো পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসার সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন। দীর্ঘ আলোচনার পর ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
নিজের এই নাটকীয় পদক্ষেপের বিষয়টি রোনালদো নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিষ্কার করেছেন। তিনি লিখেছেন, জাতীয় দলের কোচের সংবাদ সম্মেলন এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) সভাপতির সঙ্গে আলোচনার পর তিনি জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রহস্যের ধোঁয়াশা বজায় রেখে তিনি আরও যোগ করেন, জাতীয় দল ছাড়ার পেছনের কারণের সত্যটা তিনি যথাসময়ে পর্তুগিজ মানুষের কাছে তুলে ধরবেন। একইসঙ্গে তিনি জাতীয় দলের প্রতি নিজের নিবেদিত থাকার কথা উল্লেখ করে পর্তুগাল ও তার সব সতীর্থকে শুভকামনা জানিয়েছেন।
এই প্রস্থানকে কেন্দ্র করে পর্তুগালের প্রভাবশালী ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ‘ও জোগো’ দাবি করেছে, জাতীয় দলের সঙ্গে রোনালদোর দীর্ঘ পথচলার ইতি চূড়ান্তভাবেই ঘটে গেছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘরের মাঠ আলভালাদে স্টেডিয়ামে ওয়েলসের বিপক্ষে খেলা ম্যাচটিই ছিল আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর শেষ উপস্থিতি। ২০০৩ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে অভিষেকের পর ২৩৪টি ম্যাচে ১৪৬টি গোল করে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। যদিও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিক অবসরের ঘোষণা দেননি, তবে ধারণা করা হচ্ছে এই আন্তর্জাতিক বিরতির মধ্যেই তার চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক বার্তা আসতে পারে।





