উয়েফা নেশনস লিগে ডেনমার্কের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে পর্তুগালের জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে গেছেন অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কোচের সঙ্গে মতবিরোধের জেরেই তার এই সিদ্ধান্ত বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ক্যাম্প ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে রোনালদো জানিয়েছেন, উপযুক্ত সময়ে পুরো বিষয়টি নিয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলবেন।
পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলা এবং জাতীয় দলের কোচের সংবাদ সম্মেলনের পরই ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন রোনালদো। এরপর নিজের ব্যক্তিগত বিমানে মাদ্রিদে ফেরার প্রস্তুতি নেন তিনি।
বিবৃতিতে রোনালদো বলেন, জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। পর্তুগালের হয়ে সব সময় নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়া এই তারকা জানিয়েছেন, কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা যথাসময়ে দেশের মানুষকে জানাবেন।
বিবৃতির শেষাংশে পর্তুগাল ও জাতীয় দলের সব সতীর্থের জন্য শুভকামনাও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে টানা তৃতীয় দিনের মতো দলের অনুশীলনে ছিলেন না রোনালদো। এতে জাতীয় দলের ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। কোপেনহাগেনে অনুষ্ঠিত অনুশীলনে রোনালদোর উপস্থিত থাকার কথা জানিয়েছিলেন কোচ জর্জ জেসুস। তবে অনুশীলন শুরুর কিছুক্ষণ আগেই তার অনুপস্থিতির খবর সামনে আসে।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘আ বোলা’ জানিয়েছে, বুধবার কোপেনহাগেনের পার্কেন স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে যান রোনালদো। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের একটি গাড়িতে করে তিনি স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। সে সময় ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওঁ ছাড়া দলের অন্য খেলোয়াড়েরা অনুশীলনের জন্য মাঠে প্রবেশ করছিলেন।
এর কয়েক মিনিট আগে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে রোনালদোর অনুশীলনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন জেসুস। তবে একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকে রোনালদোকে নাও খেলানো হতে পারে।
কোচের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের দিন রোনালদো অনুশীলন করতে অস্বীকৃতি জানাননি। জিমে ব্যক্তিগত অনুশীলন করেছিলেন তিনি। অন্যদিকে, চোটের কারণে ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওঁ অনুশীলনে ছিলেন না এবং জোয়াও ফেলিক্সকে ক্লান্তি থেকে মুক্ত রাখতে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল।
রোনালদোকে শুরুর একাদশে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন জেসুস। তিনি জানান, ম্যাচের একাদশ নির্ধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোচ হিসেবেই তিনি নেবেন। প্রয়োজন হলে রোনালদোকে বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হতে পারে, তবে শুরু থেকে তাকে খেলানোর সিদ্ধান্ত তিনি নেননি।
এই পরিস্থিতির পরই জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন রোনালদো। তার বিবৃতিতে আপাতত বিস্তারিত কিছু না জানানো হলেও, ভবিষ্যতে পুরো ঘটনা নিয়ে কথা বলার ইঙ্গিত দিয়েছেন পর্তুগালের অধিনায়ক।





