রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চার প্রজন্মের স্মৃতি, ভাঙা ভবনেও চলছে সেবা

Published: October 1, 2026, 5:01 am

মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৩ দিন বয়সী নাতনি আফরিনকে টিকা দিতে এসে ফেরদৌসী বেগম যেন চার প্রজন্মের স্মৃতির অতলে হারিয়ে গেলেন। বুধবার দুপুরে ভাঙা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করেন। ফেরদৌসীর মা রাবেয়া বেগম একসময় এখানে গর্ভকালীন সেবা নিতেন। এরপর ফেরদৌসী নিজেও সন্তান জন্মের আগে ও পরে এখান থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। নিজের মেয়ে ফারজানা আক্তারের গর্ভকালীন ও প্রসূতি-পরবর্তী সেবাও নেওয়া হয়েছে এই কেন্দ্র থেকে। আজ সেই ফারজানার সন্তানকে টিকা দিতে এসে চেনা জায়গাটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত।

১৯৭৪ সালে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়। গত পাঁচ দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটি টিকাদান, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের হামলায় সব ওলটপালট হয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, দুই শতাধিক ব্যক্তি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। এরপর চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা ও অর্থ লুট করা হয়। ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ফেরদৌসী বেগম মিরপুর-১ নম্বরের উত্তর বিশিল এলাকায় থাকেন। তাঁর স্বামী ফরিদ আহমেদ অসুস্থ। মেয়ে ফারজানা আক্তারের স্বামী সুমন মিয়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান। তাদের মতো নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য রাড্ডা কেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফারজানা বলেন, গর্ভকালীন সব পরামর্শ ও চিকিৎসা তিনি এখান থেকেই পেয়েছেন। হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে গেলে তাদের মতো দরিদ্র মানুষরা বিপদে পড়বেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার জানান, হামলার পরও সেবা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ভাঙা কক্ষেই বিদ্যুৎ ও পানিবিহীন অবস্থায় টিকাদানসহ স্বাস্থ্যসেবা চলছে। তিনি আরও বলেন, এই এলাকার অনেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতা ছোটবেলায় এখান থেকে টিকা নিয়েছেন। তাদের মায়েরা এখানে গর্ভকালীন সেবা নিয়েছেন। ভবনগুলো ভাঙা হলেও চার প্রজন্মের সেই সম্পর্ক যেন এখনো টিকে আছে রাড্ডার সঙ্গে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo