বান্দার পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ অপরিহার্য। এই অনুগ্রহগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হলো পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হওয়া। মানুষ পার্থিব জীবনে নানা ডিগ্রি অর্জন করলেও আল্লাহর কালাম থেকে দূরে থাকলে জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও অর্থ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। যে কিতাব সব জ্ঞান ও বিজ্ঞানের উৎস, তা থেকে বিমুখ থাকা দুর্ভাগ্যজনক।
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যার হৃদয়ে কোরআনের কিছুই নেই সে পরিত্যক্ত ঘরের মতো।' (তিরমিজি: ২৯১৩)। যে হৃদয়ে কোরআন নেই, তার কোনো মূল্য নেই; তা শূন্য ঘরের মতোই বিরান। বিপরীতে, যারা কোরআনকে হৃদয়ে ধারণ করবে, তাদের জন্য এই মহাগ্রন্থ জান্নাতের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। জাবের (রা.)-এর বর্ণনায়, কোরআন কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে। যে ব্যক্তি একে সামনে রাখবে, কোরআন তাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে, আর যে একে পেছনে ফেলবে, তাকে জাহান্নামের দিকে পরিচালিত করবে (আত-তারগিব: ১৪২৩)।
কবরের অন্ধকার জীবনেও কোরআন সঙ্গীর ভূমিকা পালন করে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এক সাহাবি না জেনে একটি কবরের ওপর তাঁবু খাটিয়েছিলেন, যেখানে তিনি সুরা মুলক পাঠের আওয়াজ শুনতে পান। পরবর্তীকালে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানান, এই সুরাটি প্রতিরোধকারী ও নাজাত দানকারী, যা কবরের আজাব থেকে তিলাওয়াতকারীকে রক্ষা করে (তিরমিজি: ২৮৯০)। একইভাবে, যেসব ঘরে নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত হয়, বিশেষ করে সুরা বাকারা, সেখান থেকে শয়তান পলায়ন করে। আবু হুরায়রা (রা.)-এর সূত্রে রাসুল (সা.) ঘরগুলোকে কবরস্থানে পরিণত না করার পরামর্শ দিয়েছেন (মুসলিম: ২১১৯)।
মানুষের অন্তর অসুস্থ হলে তাতে পাপের মরীচিকা পড়ে, যা ভালো কাজের আগ্রহ কমিয়ে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) হৃদয়ের এই মরিচা দূর করার উপায় হিসেবে বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করা এবং কোরআন তিলাওয়াত করার নির্দেশ দিয়েছেন (শুআবুল ঈমান: ১৮৫৯)। এছাড়া আবু মালিক আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, কোরআন কিয়ামতের দিন তিলাওয়াতকারীর পক্ষে অথবা বিপক্ষে প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। মানুষ প্রতিদিন ভোরে নিজেকে আমলের বিনিময়ে বিক্রি করে, যা তাকে আল্লাহর আজাব থেকে মুক্ত করতে পারে অথবা ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে (মুসলিম: ৪২২)।





