ট্রাম্প প্রশাসনকে উৎখাতের আহ্বান জানিয়ে মার্কিন ভোটারদের চিঠি আইআরজিসির

Published: September 30, 2026, 4:28 am

যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি)। এই চিঠিতে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে উৎখাত করার জন্য দেশটির জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন চলমান যুদ্ধ, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের ক্রমাগত বিভ্রান্ত করছে এবং ‘বড় বড় মিথ্যা’ তথ্য প্রচার করছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই চিঠিতে মার্কিন ভোটারদের দুর্নীতির সাথে জড়িত রাজনীতিকদের হাত থেকে ক্ষমতা ফিরিয়ে নেওয়ার এবং ‘জেগে ওঠার’ তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পাঁচ সপ্তাহ আগে এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের সাত মাস পূর্তির পরদিন এই চিঠিটি প্রকাশ করা হলো। ‘যুক্তরাষ্ট্রের সম্মানিত জনগণের প্রতি’ সম্বোধন করা দীর্ঘ এই চিঠিতে বর্তমান মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে চরম দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, পরিবর্তনের জন্য এখনই উপযুক্ত সময়। আইআরজিসি দাবি করেছে, যুদ্ধে ইরানেরই চূড়ান্ত বিজয় হয়েছে এবং হাজার হাজার বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করাসহ তাদের ঘোষিত কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের নীতিহীন রাজনীতিকদের কারণে ইরানি ও মার্কিন উভয় দেশের জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইরানে বহুল প্রচলিত ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগানের ব্যাখ্যা দিয়ে আইআরজিসি স্পষ্ট করে জানায় যে, এই স্লোগান মার্কিন সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং হোয়াইট হাউসে বসে থাকা কুচক্রী শাসকগোষ্ঠীর পতনের প্রার্থনার অংশ।

মঙ্গলবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি ট্রাম্পকে একজন ‘পাকা মিথ্যাবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, মার্কিন নাগরিকরা এই যুদ্ধ অভিযানের ভয়াবহ ক্ষতি সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছে। হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবিও নাকচ করে দেন মোহেব্বি। তিনি জানান, রাতের আঁধারে চরম ঝুঁকি ও বিপুল ব্যয়ে ছোট কোনো জাহাজ পার করলেই প্রণালিটি উন্মুক্ত হয়ে যায় না। এর আগে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন এবং নভেম্বরের নির্বাচনের পরই চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছিলেন। ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে লক্ষ্য করে সরাসরি মার্কিন জনগণের সঙ্গে যোগাযোগের এই নতুন কৌশল নিল তেহরান।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin