ইসলামে আত্মহত্যার ভয়াবহতা ও এর পরিণাম

Published: September 30, 2026, 3:18 am

পারিবারিক বিপর্যয়, মানসিক অশান্তি, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়ের মতো বিভিন্ন জটিল পরিস্থিতির সঙ্গে আত্মহত্যার মতো ধ্বংসাত্মক ঘটনাগুলো জড়িয়ে থাকে। মূলত প্রচণ্ড মনস্তাত্ত্বিক চাপের মুখে ভারসাম্য হারিয়ে দুর্বল চিত্তের ব্যক্তিরা আত্মহননের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়ার ভুল পথ বেছে নেয়। ইসলামে আত্মহত্যা একটি মহাপাপ এবং অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ হিসেবে বিবেচিত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, 'তোমরা নিজেদের হত্যা কোরো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। যে কেউ সীমালঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে তা (আত্মহত্যা) করবে, তাকে আগুনে দগ্ধ করব। এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।' (সুরা নিসা : ২৯-৩০)।

আত্মহত্যার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। রাসুল (সা.)-এর একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, পূর্ববর্তী উম্মতের এক ব্যক্তি আহত হয়ে ছটফট করার সময় ছুরি দিয়ে নিজের হাত কেটে রক্তপাত ঘটিয়ে মৃত্যুবরণ করেছিল। তখন আল্লাহ ঘোষণা করেন, 'আমার এ বান্দা নিজের ব্যাপারে খুব তাড়াহুড়া করে ফেলেছে। এ কারণে আমি তার প্রতি জান্নাত হারাম করে দিয়েছি।' (বোখারি : ৩২৭৬)। এছাড়া আত্মহত্যার কুফল সম্পর্কে রাসুল (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে, বিষপান করে বা ছুরির আঘাতে নিজেকে হত্যা করবে, জাহান্নামে সে স্থায়ীভাবে সেই একই পদ্ধতিতে শাস্তি পেতে থাকবে। তিনি আরও বলেন, 'যে ব্যক্তি ইহকালে কোনো কিছু দ্বারা নিজেকে হত্যা করবে, তা দ্বারা পরকালে তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে।' (বোখারি : ৫৭০০, মুসলিম : ১০৯)।

একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো ডিপ্রেশন, মানসিক অশান্তি ও পারিবারিক কলহের মতো কঠিন সময়েও আল্লাহর ওপর ভরসা বা তাওয়াক্কুল করা। প্রকৃত ঈমানদার কোনো পরিস্থিতিতেই আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয় না। আল্লাহতায়ালা বলেন, 'যারা পথভ্রষ্ট, তারা ছাড়া আর কে তার রবের অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়?' (সুরা হিজর : ৫৬)। অন্য আয়াতে তিনি বলেন, 'তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না।' (সুরা যুমার : ৫৩)। বিপদাপদে আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা রাখাই মুমিনের কাজ, কারণ পৃথিবী ক্ষণস্থায়ী এবং কোনো সংকটই স্থায়ী নয়। কোরআনে বলা হয়েছে, 'কষ্টের পরেই সুখ আসে।' (সুরা ইনশিরাহ : ৫) এবং 'যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।' (সুরা তালাক : ৩)।

ইসলামে মৃত্যু কামনা করা নিষিদ্ধ, তাই নিজের ইচ্ছায় জীবন বিসর্জন দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাসুল (সা.) শিখিয়েছেন, কেউ দুঃখ-কষ্টে পড়লে যেন মৃত্যু কামনা না করে। বরং তার প্রার্থনা হওয়া উচিত, 'হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখো, যতদিন আমার জন্য বেঁচে থাকা কল্যাণকর হয়। আর মৃত্যু দাও, যখন আমার জন্য মরে যাওয়া কল্যাণকর হয়।' (বোখারি : ৫৬৭১)।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh