১,৪৯৮টি আকর্ষণ নিয়ে পর্যটন মহাপরিকল্পনা হচ্ছে: রাষ্ট্রপতি

Published: September 26, 2026, 3:51 pm

দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বর্তমান সরকার পর্যটন খাতকে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও পরিকল্পিত উপায়ে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই মহাপরিকল্পনাটি তৈরি করা হচ্ছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উদযাপিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি জানান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। প্রতিটি জেলার পর্যটন উপযোগিতা বিবেচনা করে স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে পর্যটন সুবিধা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বাংলাদেশ পর্যটকদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য। কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত, সুন্দরবনের বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন, সিলেটের চা বাগান, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, বান্দরবানের সাজেক ভ্যালি, নীলগিরি, নীলাচল, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক, জাফলংয়ের পাহাড়ি ঝরনা, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ, হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি, সবুজ পাহাড়, বৌদ্ধবিহার, অজস্র নদ-নদী এবং সবুজ ফসলের মাঠের পাশাপাশি মানুষের উষ্ণ আতিথেয়তা ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এই খাতকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় করে তুলেছে। দেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে পর্যটন খাত শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে।

বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আজ বিশ্বব্যাপী পর্যটনের কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সেবাদানের ধরন বদলে দিচ্ছে। ভ্রমণ পরিকল্পনা, তথ্যপ্রাপ্তি, যাতায়াত ও আবাসনসহ সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব বিস্তৃত হচ্ছে। এ কারণে দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জাতীয় পর্যটন নীতিমালা হালনাগাদ করার পাশাপাশি আধুনিক পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণ এবং ইকো ট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের বিকাশে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। সরকারের চলমান তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে পর্যটনের ডিজিটাল রূপান্তর আরও ত্বরান্বিত হবে। অনলাইন বুকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যসেবা দেশের পর্যটন গন্তব্যগুলোকে আরও সহজলভ্য, নিরাপদ ও আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রযুক্তির সমন্বয়ে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে আরও আধুনিক করতে এবং দেশকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি সব অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। পরিবেশের ভারসাম্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন শিল্পের ডিজিটাল ও টেকসই রূপান্তর ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বিশ্ব পর্যটন দিবসের সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh