কুয়েত সরকারকে উপহার হিসেবে দেওয়ার জন্য কেনা মাছের চালান ফ্লাইট-সংক্রান্ত জটিলতায় পাঠানো সম্ভব হয়নি। গত এপ্রিল মাসে কেনা ২০ টন রুপচাঁদা, গলদা ও বাগদা চিংড়ির এই চালানটি কুয়েতে পৌঁছায়নি। মাছ পচনশীল পণ্য হওয়ায় কুয়েত সরকার বাণিজ্যিক ফ্লাইটে তা নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। ফলে দীর্ঘ পাঁচ মাস অপেক্ষার পর সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এসব মাছ বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে।
টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, উপহারের তালিকায় ১০ টন গলদা চিংড়ি, ৫ টন রুপচাঁদা ও ৫ টন বাগদা চিংড়ি ছিল। এর মধ্যে প্রথম নিলামে খুলনার একটি প্রতিষ্ঠান ৫ টন বাগদা চিংড়ি কিনে নিয়েছে। বর্তমানে ১০ টন গলদা ও ৫ টন রুপচাঁদা অবিক্রিত রয়ে গেছে। গত ১৮ আগস্ট প্রথম নিলাম ডাকা হলেও প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার নিলামেও কোনো ক্রেতা পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ২৩ সেপ্টেম্বর তৃতীয়বারের মতো দরপত্র আহ্বান করেছে সংস্থাটি, যা ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
নিলামে অংশগ্রহণের জন্য আগ্রহী ক্রেতাদের কমপক্ষে ৫০০ কেজি মাছের জন্য দর প্রস্তাব করতে হবে। দরপত্র জমা দেওয়া যাবে টিসিবির ঢাকার প্রধান কার্যালয় এবং খুলনা ও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক কার্যালয়ে। এছাড়া ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খুলনার বটিয়াঘাটার ভান্ডারকোটে অবস্থিত জিটিএস সি-ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রসেসিং প্ল্যান্টে মাছগুলো সরাসরি দেখার সুযোগ রয়েছে।
নিলামের শর্ত অনুযায়ী, দরপত্রের সঙ্গে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকার ফেরতযোগ্য জামানত হিসেবে পে-অর্ডার জমা দিতে হবে। সর্বোচ্চ দরদাতাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে এবং তাকে সরকারি বিধি অনুযায়ী ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর ও ৫ শতাংশ আয়কর জমা দিতে হবে। টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানিয়েছেন, আগের নিলামগুলোতে অংশগ্রহণ থাকলেও প্রত্যাশিত দর না পাওয়ায় মাছ বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। নিলাম কতবার ডাকা যাবে তার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম না থাকায় তারা বিক্রির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নিলামে বিজয়ী হওয়ার পর তিন কর্মদিবসের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে এবং পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নিজ খরচে মাছ সংগ্রহ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ বা মাছ সংগ্রহে ব্যর্থ হলে জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। এছাড়া মাছ নিতে দেরি হলে প্রতিদিনের জন্য সংরক্ষণাগার খরচও ক্রেতাকে বহন করতে হবে বলে জানিয়েছে টিসিবি।





