ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ, নতুন ডিক্রি জারি

Published: September 26, 2026, 5:12 am

ইতালির সরকার দেশটির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় ভাষায় সীমিত দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর সংখ্যার ওপরও সীমা নির্ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার গৃহীত এক ডিক্রিতে বলা হয়েছে, স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রমে এমনভাবে মুখ ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ, যাতে ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হয়। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় বোরকা ও নিকাব পড়লেও হিজাব এর বাইরে থাকছে, কারণ হিজাবে মুখ ঢাকা থাকে না। নিয়ম ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, এসব পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের সমাজের মূলধারায় একীভূত হতে সহায়তা করবে এবং ‘ঘেটো শ্রেণি’ গড়ে ওঠা ঠেকাবে। ঘেটো শ্রেণি বলতে তিনি অভিবাসীদের ভিন্ন ভাষা নিয়ে ভীতি এবং তাদের ভাষা বিষয়ক বিকল্প ব্যবস্থাকে বুঝিয়েছেন। টেলিভিশনে দেয়া বক্তব্যে মেলোনি বোরকা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে নিরাপত্তার বিষয় হিসেবেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যখন কোনো নারী বা অল্পবয়সী মেয়েকে মুখ ঢাকতে বাধ্য করা হয়, তখন তার মৌলিক অধিকার এবং সামাজিক একীভূতকরণের সুযোগ—উভয়ই কেড়ে নেয়া হয়।

নতুন ডিক্রিতে প্রথম শ্রেণিতে ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই—এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার নিয়ম করা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এই নিয়ম তাদের জন্য প্রযোজ্য যারা ইতালিতে জন্মগ্রহণ করেনি অথবা অন্তত দুই বছর প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েনি। নিম্ন ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এই নিয়ম তাদের জন্য প্রযোজ্য, যারা অন্তত তিন বছর ইতালির স্কুল ব্যবস্থায় পড়াশোনা করেনি। তবে কোনো শিক্ষার্থীকে অন্য কোথাও ভর্তি করানো সম্ভব না হলে এবং তার জন্য অতিরিক্ত ভাষা সহায়তার ব্যবস্থা থাকলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই সীমা থেকে ছাড় দিতে পারবে।

মেলোনি গত রোববার তার দল ব্রাদার্স অব ইতালির যুব শাখার এক সমাবেশে প্রথম এই পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০১০ সালে ইতালিতে এ সংক্রান্ত একটি নমনীয় নির্দেশনা ছিল, যা নতুন ডিক্রির মাধ্যমে এখন আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা হলো। তবে এই নিয়ম কার্যকর রাখতে হলে ৬০ দিনের মধ্যে সংসদের অনুমোদন পেতে হবে। ইতালিতে মুখ ঢেকে রাখার পোশাক নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গত বছর মেলোনির দল জনসমক্ষে পুরো মুখ ঢেকে রাখা পর্দা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিলেও সেই বিল এখনো সংসদে পাস হয়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপজুড়ে মুখ ঢেকে রাখা পোশাকের বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ জোরদার হয়েছে। ২০১১ সালে ফ্রান্স, ২০১৮ সালে ডেনমার্ক এবং ২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ডে জনসমক্ষে এ ধরনের পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ডেনমার্ক স্কুলেও এই নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এছাড়া ইউরোপীয় বিচার আদালত ২০২৩ সালে রায় দিয়েছে যে, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ প্রশাসনিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বোরকা ও হিজাবের মতো ধর্মীয় পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin