চলতি বছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বুধবার সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করার কথা জানিয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন যেহেতু তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে তাদের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে, তাই এটি স্পষ্ট যে আগামী বছরই নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কমিশন।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নির্বাচনের সময় এখনো বাকি আছে, তাই মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে তা এখনই বলা কঠিন। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। এর আগে কমিশন সরকারকে না জানিয়েই তারিখ ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছিল। পরবর্তীতে সচিব পর্যায়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করা হয় এবং কমিশন এখন ৬ জুনের মধ্যে নির্বাচন শুরু ও শেষ করার কথা বলছে। রমজান মাস, এসএসসি পরীক্ষা এবং ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই কমিশন হয়তো এই সময়সূচি নির্ধারণ করেছে, কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে ভোটের সুনির্দিষ্ট তারিখ এবং নির্বাচনের মোট ব্যয় কত হবে, তা সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পায়নি।
নির্বাচন পরিচালনার জন্য স্থানীয় সরকার, অর্থ, স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচিবরা সমন্বয় করছেন। মীর শাহে আলম জানান, অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই অর্থাৎ ৬ জুনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য রয়েছে। সরকার নির্বাচনের জন্য বাজেট বরাদ্দ রেখেছে এবং সচিবদের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে কমিশন জানিয়েছে। তবে প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ কমবেশি হতে পারে বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ৫৮আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ০২





