প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ৪২। বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে দ্রব্যমূল্য ও পরিবহন খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বাস ও ট্রাক ভাড়ার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে গেছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার প্রবণতার মধ্যেই দেশে এমন মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তেলের দামের তুলনা করে এই বর্ধিত মূল্যের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও কৃষকদের ব্যবহৃত কেরোসিনের দাম বর্তমানে ভারতের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ভারতে খোলাবাজারে কেরোসিনের গড় বিক্রয়মূল্য ৪৬.৮০ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৯.৯০ টাকা। এই হিসাবে বাংলাদেশের দাম ভারতের তুলনায় ৬১.২৯ শতাংশ বেশি।
গত সোমবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ২.১৬ ডলার কমে ১০১.৭১ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ২.১৫ ডলার কমে ৯৮.১৫ ডলারে নেমে আসে। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন, সরকার বাধ্য হয়েই এই সমন্বয় করেছে। প্রতিবেশী দেশে তেল পাচারের আশঙ্কা থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তিনি ভোক্তাদের কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
সাধারণ মানুষের দাবি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকটের মধ্যে জ্বালানি তেলের লিটারপ্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধি জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলবে। অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ হেলাল উদ্দীন জানান, এই মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাজেট ভারসাম্য রক্ষায় সরকার চাপে থাকলেও এই সিদ্ধান্ত বিনিয়োগ স্থবিরতা ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় তৈরি পোশাক শিল্পে খরচ বাড়বে, বিশেষ করে স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর চালানো এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে। রাজনৈতিক দলগুলোও এই জনবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে সাধারণ শ্রমজীবী ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। বিশ্লেষকদের মতে, গত ১৯ এপ্রিল যখন প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৫ টাকা, কেরোসিন ১৮ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা এবং অকটেন ২০ টাকা বাড়ানো হয় তখনই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। সেদিনের পর থেকে বিশ্ববাজারে দাম কিছুটা ওঠানামা করলেও শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো তফাৎ হয়নি যে এভাবে উচ্চহারে দাম বাড়াতে হবে। এমন সিদ্ধান্তে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র জনঅসন্তোষ দেখা দিতে পারে।





