জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর প্রেক্ষিতে বাসভাড়া পুনর্র্নিধারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন পরিবহন মালিকরা। সোমবার বিকেলে রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই বৈঠকটি প্রায় দেড় ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। এতে বাসমালিক ও শ্রমিকসহ পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে জ্বালানি তেলের নতুন দামের কারণে বাস পরিচালনার ব্যয় কতটা বেড়েছে এবং সেই অনুযায়ী ভাড়া কী হারে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো নতুন বাসভাড়া চূড়ান্ত করা হয়নি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম মানবজমিনকে জানান, তেলের দাম বাড়ার কারণে জরুরি ভিত্তিতে বিআরটিএ-তে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া পুনর্র্নিধারণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে এবং বাকি সিদ্ধান্ত বিআরটিএ নেবে।
সর্বশেষ চলতি বছরের এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাসভাড়া সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করেছিল। একই সময়ে অকটেন ২০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বাড়ানো হয়। সেই সময় বিআরটিএ-এর ভাড়া নির্ধারণ-সংক্রান্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর ২৩শে এপ্রিল একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা করা হয়েছিল। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসের ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা এবং ডিটিসিএ এলাকার মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ৩২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ তখন দূরপাল্লা ও মহানগরের বাসে কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল।
পরিবহন মালিকদের বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী, কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানো হলে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া দাঁড়াবে ২ টাকা ৪৩ পয়সা। এতে প্রতি ১০০ কিলোমিটারে ভাড়া পড়বে ২৪৩ টাকা। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৭৩ পয়সা হতে পারে। পাশাপাশি ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এলাকার ক্ষেত্রে ভাড়া ২ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৬৩ পয়সা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।





