জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও সরকারকে ৭০ টাকা লোকসান দিতে হবে: রিজভী

Published: September 21, 2026, 11:46 am

সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর পরও সরকারকে প্রতি লিটারে ৭০ টাকা লোকসান দিতে হবে।

রিজভী আরও বলেন, দেশে মোট জ্বালানি তেলের ব্যবহার ৭০ লাখ মেট্রিক টন, যার মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ প্রায় ৪৫ লাখ টন। গতকাল পর্যন্ত ডিজেলের দাম ছিল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, যেখানে ভারতে এর দাম প্রায় ১৩৪ টাকা। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশকে ২৫০ টাকা দরে ডিজেল কিনতে হয়, যার ফলে প্রতি লিটারে ৯০ টাকা লোকসান হয়। ২০ টাকা দাম বাড়ানোর পরও সেই লোকসানের পরিমাণ ৭০ টাকা থেকে যাচ্ছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এখনো জ্বালানি তেলের দাম অনেক কম উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘জাপানে ১ দশমিক ০২৭ ডলার প্রতি লিটার এবং বাংলাদেশে ছিল শূন্য দশমিক ৯৩০ ডলার।’ তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের কোনো বিকল্প ছিল না এবং সরকার প্রধান তারেক রহমান জনগণের কষ্ট লাঘবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের জনস্বার্থমূলক উদ্যোগগুলো থেকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন জায়গায় যানবাহনে আগুন দেওয়া হচ্ছে। এটি শুধু পরাজিত শক্তির কাজ নয়, বরং নতুন দোসররাও ভূগর্ভস্থ কোনো গোপন কক্ষে হাত মেলাচ্ছে কি না, তা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

রিজভী আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশ থেকে গ্যাস ও জ্বালানি এনে ন্যাশনাল গ্রিডে সরবরাহ নিশ্চিত করছে। এর ফলে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। তিনি বিরোধী দলের নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম কমানোর কোনো বিকল্প না জানিয়ে তারা লংমার্চ করেছেন এবং সরকার ও বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা কোনো গণতান্ত্রিক সমাজের কাম্য নয়। সরকারের এসব উদ্যোগকে ব্যঙ্গ করে বা মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এখানে লোকসান যায় প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা।

এই সময়ে প্রতি মাসে লোকসান ছিল ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy