রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। গত রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে মারধরের এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেন এবং পরে স্টেশনে দফায় দফায় হামলা চালান। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম আইয়ুব আলী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার রাতেই বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে চার আরএনবি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত হওয়া কর্মীরা হলেন— মো. আরিফ হোসেন (স্টাফ নং সি-৯৮৯), মো. রোকন উদ্দীন (সি-৮৮৩), মো. শফিকুল ইসলাম (সি-১৩২১) ও মো. শাহাদত হোসেন (সি-৬০০)।
জানা গেছে, আইয়ুব আলী তাঁর চাচাকে এগিয়ে নিতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়েছিলেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের কথা-কাটাকাটি হচ্ছিল। একপর্যায়ে আইয়ুব ওই দুই শিক্ষার্থীর পক্ষে কথা বলতে গেলে নিরাপত্তা কর্মীরা তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ওই দিন রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন শিক্ষার্থীরা। এর ফলে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ‘ধূমকেতু এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি হরিয়ান এলাকায় আটকে পড়ে। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রেললাইন ধরে হেঁটে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে অগ্রসর হন। রাত ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা স্টেশনের বিভিন্ন স্থানে কয়েক দফায় ভাঙচুর চালান। তাঁরা গাছের ডাল, বাঁশ, লাঠি ও ইটপাটকেল ব্যবহার করে স্টেশনের কাচের জানালা, ডাস্টবিন, দোকানপাট, রেলওয়ে থানা, পার্সেল অফিস, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যালয়, কর্মকর্তাদের কক্ষ, সাইনবোর্ড এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরে রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা স্টেশন ত্যাগ করে ক্যাম্পাসে ফিরে যান।
এর আগে রাকসু আন্দোলন বা শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের পক্ষে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, "আমার শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমি বিন্দুপরিমাণ অ্যাপোলজি (ক্ষমা) করব না। কথায় কথায় শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার প্রবণতা কতটা ভয়ানক, তা হয়তো আজ বুঝেছে। একজন সাধারণ মানুষেরও বিন্দুপরিমাণ ক্ষতি হয়নি। যদি মামলা করতে হয়, তবে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের নামেই করতে হবে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. মাহবুবুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করা সম্ভব হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ক্যাম্পাসে ফিরে গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করবেন এবং ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।
অন্যদিকে, পশ্চিম রেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) অসীম কুমার তালুকদার এই সহিংসতাকে অনাকাঙ্ক্ষিত আখ্যা দিয়ে জানান, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান।





