প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ২৬। দেশের প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনা হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে প্রায় চার কোটি মানুষ এই সুরক্ষাবলয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে।
ড. সুরাতুজ্জামান জানান, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এই পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। উন্নত বিশ্বের আদলে গঠিত এই অবদানমূলক বা কন্ট্রিবিউটরি পেনশন ফান্ডে বর্তমানে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস—এই চারটি স্কিম চালু রয়েছে। এখন পর্যন্ত এই স্কিমগুলোতে মোট তিন লাখ ৭৯ হাজার ৬৫৫ জন গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন এবং ফান্ডের জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯১ কোটি ১৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
পেনশন তহবিলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংগৃহীত অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়, যা অত্যন্ত নিরাপদ বলে বিবেচিত। এই তহবিল পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয় সরকার বহন করায় বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত মুনাফা সরাসরি গ্রাহকের হিসাবে জমা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফার হার ছিল ১১.৭২ শতাংশ, যা বর্তমান মূল্যস্ফীতির চেয়েও বেশি। এছাড়া মাসিক চাঁদার বিপরীতে কর রেয়াত এবং প্রাপ্ত পেনশনের ওপর আয়করমুক্ত সুবিধা রয়েছে।
ড. সুরাতুজ্জামান জানান, প্রান্তিক মানুষের আয়ের কোনো ঘাটতি না থাকলেও প্রধান বাধাটি হলো সচেতনতার অভাব। এ বিষয়ে আমরা রুট লেভেলে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের বক্তব্য ইউটিউব, দৈনিক পত্রিকা ও বিভিন্ন মেলায় প্রচার করা হচ্ছে। জেলা-উপজেলায় সেমিনার-সিম্পোজিয়াম হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত কয়েক মাসে আমাদের ফেসবুক ভিউ তিন হাজার থেকে বেড়ে ২৬-২৭ হাজারে উন্নীত হয়েছে। আশা করি আগামীতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা না বাড়লেও সম্পৃক্ততা বাড়বে।
ড. সুরাতুজ্জামান আরও জানান, অতীতে দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অনেক ব্যাংক-বীমা ও করপোরেশনের তহবিল তছরুপ হলেও এই পেনশন তহবিলে কেউ হাত দিতে পারেনি। প্রায় ১৫০ কোটি টাকার মতো ফান্ড তখনো সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ছিল। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের রাজনৈতিক ইশতেহারে পেনশন ফান্ড গঠনের কথা বলা থাকায় তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত ইতিবাচক। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত পজিটিভ ইঙ্গিত দিয়েছে। সুতরাং আগামী দিনে এটি আরো ভালোভাবে কার্যকর হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য প্রবাস স্কিম সহজতর করতে প্রবাসী কল্যাণ সচিব ও গ্রিসের হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বিশ্বের সব দূতাবাসে পররাষ্ট্র সচিবের মাধ্যমে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং ট্রাস্ট ব্যাংকে বাংলা কিউআর কোড চালু করা হয়েছে। তহবিলের সংস্কারের অংশ হিসেবে নমিনির বয়সসীমা ৭৫ থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করা হয়েছে এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগিতায় শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বিশেষ পরিস্থিতিতে ন্যূনতম পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।





