খাল খনন মহাপরিকল্পনার সাফল্য নিয়ে পরিবেশবিদদের সংশয়

Published: September 21, 2026, 2:59 am

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ৪৬। সারা দেশে খাল পুনঃখনন, উভয় পাড়ে নিবিড় সবুজ বনায়ন এবং নদী ও খালের ভাঙন রোধের লক্ষ্যে সরকার একটি বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টির মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের আওতায় খালগুলোর দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য বিপুল জনবল নিয়োগের একটি রূপরেখাও তৈরি করা হচ্ছে। তবে এই শত শত কোটি টাকার প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে শুরুতেই সংশয় প্রকাশ করেছেন দেশের পরিবেশবিদরা। তাদের আশঙ্কা, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নীতি ও স্বচ্ছতার অভাব থাকলে এটি সরকারি অর্থের অপচয়ের নতুন একটি খাত হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে সরকারি উদ্যোগে খাল খনন ও বনায়নের পর রক্ষণাবেক্ষণের সুনির্দিষ্ট নীতি না থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই পলি জমে খালগুলো পুনরায় ভরাট হয়ে গিয়েছিল। শুরুতে খাল নির্বাচন, জমি ও মালিকানা যাচাই, পানিপ্রবাহ ও পরিবেশগত সক্ষমতা পরীক্ষা এবং জেলা প্রশাসনের অনাপত্তি নেওয়া হবে। এরপর উপকারভোগী নির্বাচন, সমবায় গঠন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ শেষে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হবে। নিয়মিত পরিবীক্ষণের পাশাপাশি ১২ মাসে মধ্যবর্তী এবং ২৪ মাসে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে প্রকল্পের চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা হবে। এছাড়া জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতি এড়িয়ে প্রকৃত অসচ্ছলদের সুযোগ দেওয়ার দাবি উঠেছে। নদীবিজ্ঞান ও স্থানীয় পরিবেশ পর্যালোচনা ছাড়া পলি অপসারণ করলে তা নদীব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিপিআরডি) প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, সরকারি পরিকল্পিত নীতির অভাবে প্রকল্পগুলো প্রায়ই মাঝপথে ভেস্তে যায় এবং অর্থের অপচয় ঘটে। তিনি প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।

প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের ২০টি নির্বাচিত সরকারি খাল বা খালসমষ্টিকে মডেল হিসেবে নেওয়া হবে। মোট ৬০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খালগুলোর প্রতি কিলোমিটারকে একটি ব্যবস্থাপনা একক ধরে ৬০টি ইউনিট গঠন করা হবে। প্রতিটি ইউনিটে ২০ জন করে মোট ১,২০০ জনকে সম্পৃক্ত করা হবে, যার অন্তত ৫০ শতাংশ নারী সদস্য রাখার লক্ষ্য রয়েছে। এই উদ্যোগে অতিদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক বনায়ন, মাছ ও হাঁস পালন এবং সবজি চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।

পাইলট প্রকল্পের জন্য সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা প্রাথমিক বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হবে। সরকারি সম্পদের মালিকানা কোনো ব্যক্তি বা সমবায়কে হস্তান্তর করা হবে না। ২৪ মাস মেয়াদী এই প্রকল্পের কার্যকারিতা শুধু খরচের পরিমাণ নয়, বরং কর্মসংস্থান, নারীর সম্পৃক্ততা এবং সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমার ওপর ভিত্তি করেই বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, কোনো দলীয় বিবেচনা ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh