দখলকৃত পশ্চিম তীরে গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকা এক নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিকে মাথায় গুলি করে হত্যাকারী সাবেক ইসরাইলি সেনা ইলোর আজারিয়াকে সাধারণ ক্ষমা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। প্রায় এক দশক আগের এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ইসরাইলের সমাজ ও রাজনীতিতে গভীর বিভাজন সৃষ্টি করেছিল। শনিবার রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্ষমার ঘোষণা দেওয়া হয় বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ইসরাইলের বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট হারজোগ এই ক্ষমা মঞ্জুর করেছেন। রাষ্ট্রপতির দপ্তর জানিয়েছে, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হওয়া এবং আসন্ন ইহুদি ধর্মীয় প্রায়শ্চিত্ত দিবস বা 'ইয়োম কিপুর'-এর ভাবগাম্ভীর্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩০ বছর বয়সী সাবেক এই কমব্যাট মেডিক আজারিয়া নিজের অপরাধের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং সেদিনের ঘটনাটিকে একটি সামরিক অভিযানকালীন ভুল বা ত্রুটি বলে দাবি করেছেন।
আজারিয়াকে ক্ষমা করার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইসরাইলের ভেতরেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ এই পদক্ষেপকে একটি মানবিক ও উপযুক্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করলেও এর তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন দেশটির সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির। তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে চিঠি লিখে এই ক্ষমার বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে, উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির আজারিয়ার অপরাধমূলক রেকর্ড বাতিল করার এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
২০১৬ সালে পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে এক ইসরাইলি সেনাকে ছুরিকাঘাত করার পর আবদেল ফাত্তাহ আল-শরীফ নামের এক ফিলিস্তিনি যুবক মারাত্মক আহত হয়ে মাটিতে পড়ে ছিলেন। সে সময় আজারিয়া এগিয়ে গিয়ে খুব কাছ থেকে সরাসরি তার মাথায় গুলি চালান। নিরস্ত্র ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা ওই ফিলিস্তিনিকে হত্যার ভিডিওটি সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ইসরাইলি একটি সামরিক আদালত আজারিয়াকে নরহত্যার দায়ে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেয়। তবে তিনি পুরো সাজা ভোগ করেননি, মাত্র দুই-তৃতীয়াংশ সময় সাজা খেটেই কারাগার থেকে মুক্তি পান। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো শুরু থেকেই আজারিয়ার এই বিচার ও সংক্ষিপ্ত সাজাকে স্রেফ লোকদেখানো তামাশা বা প্রহসন হিসেবে সমালোচনা করে আসছিল।





