অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে পরিকল্পিতভাবে চুরি ৮ লক্ষাধিক মৌমাছি

Published: September 21, 2026, 8:19 am

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ১৪

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন খামার থেকে ৮ লাখেরও বেশি মৌমাছি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই চুরির আর্থিক মূল্য কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঘটনাগুলো অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং দক্ষ হাতে পরিচালিত হয়েছে।

অ্যাথারটন টেবিলল্যান্ডস এলাকার মৌচাষি টম বিডনারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনজন মৌচাষির কাছ থেকে মোট ৪৪টি মৌমাছির কলোনি চুরি হয়েছে। প্রতিটি মৌচাকে অন্তত ২০ হাজার মৌমাছি থাকায় মোট চুরি হওয়া মৌমাছির সংখ্যা ৮ লাখ ছাড়িয়েছে। চোরেরা পুরো মৌচাক না নিয়ে শুধুমাত্র ‘ব্রুড বক্স’ বা বংশবৃদ্ধির লার্ভা ও ডিম থাকা অংশটি খুলে নিয়ে গেছে। এরপর নিজেদের বাক্সে মৌমাছি স্থানান্তর করে মৌচাকগুলো এমনভাবে সাজিয়ে রেখে গেছে যে দূর থেকে তা বোঝার উপায় ছিল না।

টম বিডনারের মতে, এ ধরনের চুরির জন্য বিশেষ সরঞ্জাম ও মৌচাষ সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের প্রয়োজন। যেহেতু চোরেরা মধু নেয়নি এবং মৌচাক অক্ষত রেখেছে, তাই তার সন্দেহ—এই চুরির সঙ্গে মৌচাষ শিল্পের সঙ্গে পরিচিতরাই জড়িত থাকতে পারেন। মারিবা গ্রামীণ ও স্টক ক্রাইম স্কোয়াডের গোয়েন্দা সার্জেন্ট বেন ক্রসও মনে করেন, এটি কোনো শখের মৌচাষির কাজ নয়, বরং বাণিজ্যিক কোনো পক্ষের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

এই চুরির ফলে মৌচাষিরা শুধু মৌমাছিই হারাচ্ছেন না, বরং পরাগায়ন চুক্তি থেকে আসা আয়ও ঝুঁকিতে পড়েছে। বর্তমানে উত্তর কুইন্সল্যান্ডে অ্যাভোকাডোর মৌসুম চলছে, যেখানে ফসলের পরাগায়নের জন্য খামারে মৌমাছির বাক্স রাখা হয়। মহাসড়কের পাশে রাখা বাক্সগুলো থেকেও মৌমাছি চুরি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে উত্তর কুইন্সল্যান্ডের মৌচাষ শিল্প ‘ভারোয়া মাইট’ নামক পরজীবীর উপস্থিতিতে নতুন সংকটের মুখে পড়েছে। কেয়ার্নসের দক্ষিণে সম্প্রতি এই পরজীবী শনাক্ত হয়েছে, যা কলোনির জন্য বড় হুমকি। কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেগান ও’মারা জানান, ২০২২ সালে নিউক্যাসলে এই পরজীবী পাওয়ার পর থেকে তা নিয়ন্ত্রণে ১০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছে। যদি এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে আগামী ৩০ বছরে এই শিল্পের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার ছাড়াতে পারে।

টম বিডনারের ভাষায়, মৌমাছি চুরি এবং ভারোয়া মাইট—দুটোই মৌচাষিদের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে এই অঞ্চলে প্রজনন ও পরজীবী ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি থাকায় মৌচাষিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে চুরি হওয়া মৌমাছির সন্ধান ও ঘটনার তদন্ত চলছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh